Home আঞ্চলিক ইটভাটাতে মরছে নদী:কাজে আসছে না আইন

ইটভাটাতে মরছে নদী:কাজে আসছে না আইন

4

স্টাফ রিপোর্টার

ইটভাটা মালিকদের দখলদারিত্বে খুলনার বিভিন্ন উপজেলায় নদ-নদী মরে যাচ্ছে। ইটভাটা নির্মাণের ক্ষেত্রে সরকারী নিয়ম, পরিবেশ আইন বা ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন কোন কাজে আসছে না। খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার কাজিবাছা, শৈলমারি, ডুমুরিয়ার ভদ্রা, হরি, ঘ্যাংরাইল, রূপসার ভৈরব, আঠারোবেকি, দিঘলিয়ার আতাই নদীসহ জেলায় বিভিন্ন উপজেলার নদ-নদীর পাড়ে বহু ইটভাঁটি গড়ে তোলা হয়েছে। এসব ভাঁটি থেকে প্রতিবছর নদীর চর দখল করে ভাঁটির বিস্তৃতি বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এতে প্রশস্ততা সঙ্কুচিত হয়ে পড়ায় নদীগুলো যেন বাঁচতে পারছে না। জানা গেছে, খুলনা জেলায় লাইসেন্সপ্রাপ্ত ইটভাটা রয়েছে ১৫৩টি। এ ছাড়া ৩০টি ইটভাঁটি রয়েছে যার রেজিস্ট্রেশন নেই। রেজিস্ট্রেশন নেয়া ভাটাগুলোর প্রতিবছর নবায়ন করতে হয়। সেক্ষেত্রে অনেকে নবায়ন করেন, আবার অনেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে না পারায় তারা নবায়নও করতে পারেন না। নবায়ন না হওয়া ইটভাটার কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে। বেশিরভাগ ভাঁটি নদীর একেবারে গাঘেঁষে গড়ে উঠেছে। প্রতিবছর ভাটা মালিকরা মাটি সংগ্রহের জন্য নদীর পাড়ে বাঁধ দিয়ে দখল করেন। ডুমুরিয়ায় ভদ্রা ও হরি নদীর পাড়েই রয়েছে ১৮টি ইটভাটা। হরি নদীর অপরপাড়েও ইটভাঁটি রয়েছে। এসব ভাটা মালিকের নদী দখলের কারণে ভদ্রা ও হরি নদী মরতে বসেছে।

এছাড়া রূপসা উপজেলার ভৈরব নদ, আঠারোবেকি নদী, দিঘলিয়া-রূপসার আতাই নদীসহ তেরখাদা, পাইকগাছা, কয়রা, দাকোপ উপজেলাতেও নদ-নদীর পাড়ে ইটভাঁটি রয়েছে। ইটভাটার কারণে নদ-নদীর বেহাল দশা। অভিযোগ রয়েছে, অধিকাংশ ভাঁটি মালিক প্রভাবশালী। রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে তাদের সুসম্পর্ক থাকার কারণে তারা অনেকটা অবাধে এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঁটি মালিকদের মাঝে মধ্যে সতর্ক করছে, নোটিস প্রদান করছে, কোন কোন মালিককে জরিমানাও করছে; তাতেও থামছে না অবৈধ কার্যক্রম। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ইটভাঁটি থেকে প্রতিবছর ভাটার সময় (জোয়ার-ভাটা) নদ-নদীর মধ্যে বাঁধ দিয়ে ইটভাঁটির এলাকা বাড়ানো হয়। তা ছাড়া জোয়ারে পলিযুক্ত পানি ওই বাঁধের মধ্যে গিয়ে জমে ক্রমশ মাটিতে পরিণত হয়। ইট তৈরির মৌসুমে ওই মাটিও কেটে নিয়ে ইটভাঁটিতে ব্যবহার করা হয়। নদীর মধ্যে বাঁধ দেয়ায় স্রোতধারা কমে গিয়ে এক সময়ের খর¯্রােতা নদী ক্ষীণকায় হয়ে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড, প্রশাসনের সুষ্ঠু তদারকি ও কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় ভাঁটি মালিকদের দখলদারিত্ব বেড়েই চলেছে। স্থানীয়দের দাবি, ইটভাটার কবল থেকে নদ-নদী মুক্ত করে খননের মাধ্যমে পানি প্রবাহ সৃষ্টি করা হোক। তাতে নদী যেমন বাঁচবে তেমনি এলাকার পরিবেশও রক্ষা পাবে। ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রতাপ কুমার রায় বলেন, প্রতিবছর ইটভাঁটির লাইসেন্স নবায়ন করতে ট্রেড লাইসেন্স নিতে হয়। কিন্তু এই ইউনিয়নে ১১টি ইটভাঁটি থাকলেও চলতি অর্থবছরে কেউই ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ করেননি। পানি উন্নয়ন বোর্ড খুলনা অঞ্চলের (খুলনা, যশোর ও নড়াইল জেলা) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সৈয়দ হাসান ইমাম বলেন, নদী দখলদারদের উচ্ছেদে পানি উন্নয়ন বোর্ড সব সময় তৎপর রয়েছে। ইটভাঁটি স্থাপন বা অন্য কোনভাবে নদ-নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত আইনী পদক্ষেপ নেয়া হয়ে থাকে। তার পরও যদি কোথাও নদী ইটভাটার দখলে থাকে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেয়া হবে।