Home আলোচিত সংবাদ জান্নাতকে বাঁচতে দিলো না নরপিশাচ অটোচালক

জান্নাতকে বাঁচতে দিলো না নরপিশাচ অটোচালক

1


ঢাকা অফিস।।

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৫)কে হত্যার ঘটনায় তাকে বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল চট্টগ্রামে তার ভাইয়ের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যাকাণ্ডে সুমন একাই জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে ইঙ্গিত দিয়েছে পুলিশ। কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ্‌ বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও জব্দ করা হয়। তাজমিনের শরীরে আঘাতের দৃশ্যমান কোনো চিহ্ন ছিল না। তার গলায় গামছা পেঁচানো ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর বিষয়ে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশ জানায়, সুমন প্রায়ই রাতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার ও আশপাশের এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালাতেন। তার নিজস্ব বাড়ি নেই। তিনি শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি নেশাগ্রস্ত। কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশ কাজ করছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে।সংবাদ পড়ুন

এদিকে পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত অটোরিকশাচালক সুমন জানিয়েছেন, হত্যার আগে স্কুলছাত্র তাজমিনকে ধর্ষণ করে। এরপর একাই সে তাজমিনের গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে। ধানক্ষেতের কাদায় সিএনজি অটোরিকশাটি আটকে যাওয়ায় সেটি ফেলেই পালিয়ে চট্টগ্রাম চলে যায়।


এর আগে গত বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার জগৎপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলের কাছ থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি ভ্যানিটি ব্যাগ পাওয়া যায়। নিহত তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামের আবদুল আলীমের মেয়ে ও কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা আবদুল আলীম রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে চাকরি করেন। পরিবারের সদস্যরা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চারদিন আগে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। পরে সে বান্ধবীদের সঙ্গে কক্সবাজারে গিয়েছিল বলে জানা গেছে। ফেরার পথে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় নেমেছিল।


পুলিশের ভাষ্য, গত ৪ঠা অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় ওই শিক্ষার্থী। তবে মুঠোফোনের কললিস্ট বিশ্লেষণে পুলিশ জানতে পারে, সেদিন তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যান। পরদিন ৫ই অক্টোবর কুমিল্লায় ফিরে ভোররাতে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন। ৭ই অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে নূরজাহান হোটেলের সামনে নামেন তিনি। পুলিশের ভাষ্য, সিসিটিভি ফুটেজে তাকে একটি গাড়ি থেকে একা নামতে দেখা গেছে। আশপাশের কয়েকটি ক্যামেরার ফুটেজে তাকে মুঠোফোন হাত ও কাঁধে ব্যাগ নিয়ে ঘোরাফেরা করতেও দেখা যায়। পরে তিনি সড়কের দিকে চলে গেলে আর তার চলাচল ক্যামেরায় ধরা পড়েনি। মরদেহ উদ্ধারের পর ওই শিক্ষার্থীর বাবা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বুধবার গভীর রাতে তার মেয়ে মুঠোফোনে বার্তা ও লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে আটকে রাখার কথা জানায় এবং উদ্ধারের জন্য অনুরোধ করে। তবে তিনি তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোরে বার্তা দেখে লাইভ লোকেশন অনুসরণ করে সেখানে গিয়ে মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি জানতে পারেন। এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা আবদুল আলীম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সুমনের খালা শাশুড়ি ও বোন জামাইকে আটক করা হয়েছে।