Home Lead খুলনায় পুলিশ পরিদর্শককে কুপিয়ে ছিনতাই: ঘটনা নিয়ে ধোঁয়াশা, পুলিশ নাকি অন্য উদ্দেশ্যে...

খুলনায় পুলিশ পরিদর্শককে কুপিয়ে ছিনতাই: ঘটনা নিয়ে ধোঁয়াশা, পুলিশ নাকি অন্য উদ্দেশ্যে হামলা?

14

স্টাফ রিপোর্টার।।

কেএমপি সদর দপ্তরের ঢিল ছোড়া দূরত্বে গভীর রাতে এক পুলিশ পরিদর্শককে কুপিয়ে সর্বস্ব লুটে নেওয়ার ঘটনায় চরম তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ছিনতাইয়ের ঘটনা দাবি করা হলেও খোদ কেএমপি সদর দপ্তরের পাশে এত বড় দুর্ধর্ষ হামলায় প্রশ্ন উঠছে—এটি নিছকই কোনো ছিনতাই, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ বা শত্রুতা?

গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে নগরীর খানজাহান আলী রোডস্থ খুলনা কলেজিয়েট স্কুলের সামনে এই চাঞ্চল্যকর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় গুরুতর আহত পুলিশ কর্মকর্তার নাম শাহ আলম (৪৩)। তিনি খুলনা জেলার ‘এ সার্কেল’ অফিসে পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, রূপসা উপজেলায় একটি বিশেষ অভিযান শেষ করে রিকশাযোগে নগরীর সিমেট্রি রোডের পুলিশ ক্লাবে ফিরছিলেন পরিদর্শক শাহ আলম। পথে কলেজিয়েট স্কুলের সামনে পৌঁছালে তিন যুবক তাঁর রিকশার গতিরোধ করে তাঁর মোবাইল ও সঙ্গে থাকা নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। বাধা দিলে ছিনতাইকারীরা ধারালো চাপাতি দিয়ে তাঁর দুই হাতের কবজিতে একের পর এক কুপিয়ে পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে খুলনা সদর ও সোনাডাঙ্গা থানা-পুলিশের টহল দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও পরে ভোরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় রাজারবাগ পুলিশ লাইনস হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনা ঘিরে যত রহস্য ও প্রশ্ন:

ঘটনাস্থলটি খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সদর দপ্তর থেকে মাত্র ৩০০ মিটার দূরত্বে। শহরের অন্যতম সুরক্ষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত কেএমপি সদর দপ্তরের এত কাছে একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা কীভাবে এমন নৃশংস হামলার শিকার হলেন, তা নিয়ে খোদ পুলিশ প্রশাসনের ভেতরেই গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।

সাধারণ জনগণের মনে প্রশ্ন জাগছে—রাত আড়াইটার দিকে চিহ্নিত পুলিশ কর্মকর্তাকে টার্গেট করে সরাসরি দুই হাতে কোপানো কেবল ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে, নাকি এর পেছনে বিশেষ কোনো আক্রোশ বা রেষারেষি কাজ করেছে? তাছাড়া অভিযুক্তরা ছিনতাইকারী হলে পুলিশ ক্লাবের এত কাছে অস্ত্র নিয়ে ওত পেতে থাকার সাহস কীভাবে পেল?

এ বিষয়ে খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লোকমান হোসেন জানান, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ঘটনাটি ছিনতাই বলেই মনে হচ্ছে। তবে এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক দল জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।