স্পোর্টস ডেস্ক।।
উয়েফা নেশনস লিগে একচেটিয়া আধিপত্যের পর বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের চূড়ান্ত ভরাডুবি; সুইডেন ফুটবল দলের জন্য গত দুটি বছর ছিল চরম নাটকীয়তায় ভরা। তবে সব বিপর্যয় পেছনে ফেলে নাটকীয়ভাবে ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট কেটেছে ব্লাগুল্টরা। আর এই অবিশ্বাস্য ঘুরে দাঁড়ানোর নেপথ্য নায়ক স্ট্রাইকার ভিক্টর গাইওকেরেস। প্লে-অফের সেমিফাইনালে ইউক্রেনের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক এবং ফাইনালে পোল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের জয়সূচক গোল করে তিনি এখন সুইডিশ ফুটবলের পোস্টার বয়। সম্প্রতি ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তারকা ফরোয়ার্ড অকপটে জানিয়েছেন দলের কঠিন পথচলা, নতুন কোচ গ্রাহাম পটারের প্রভাব এবং বৈশ্বিক মঞ্চে জায়গা করে নেওয়ার রোমাঞ্চকর অনুভূতির কথা।
নকআউট পর্বের শেষ ম্যাচে পোল্যান্ডের বিপক্ষে ৮৮ মিনিটে করা নিজের জয়সূচক গোলটিকে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অর্জন হিসেবে দেখছেন গাইওকেরেস। ম্যাচ শেষের আবেগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, পোল্যান্ডের বিপক্ষে সেই গোলের পর অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো ছিল না। এটি ছিল তার ক্যারিয়ারের অন্যতম, হয়তো বা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোল। পুরো দলের জন্য এবং নিজের জন্য তিনি অত্যন্ত গর্বিত যে অবশেষে তারা বিশ্বকাপে পৌঁছাতে পেরেছেন। দেশের হয়ে এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অবদান রাখতে পারা এবং দলকে কাঙ্ক্ষিত জয় এনে দেওয়া তার নিজের ও পুরো স্কোয়াডের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
অথচ বিশ্বকাপের মূল বাছাইপর্বে সুইডেনের পারফরম্যান্স ছিল এককথায় ভয়াবহ। ২০২৫ সালের গ্রুপ ‘বি’র অভিযানে ছয়টি ম্যাচ খেলে মাত্র দুই পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তলানিতে থেকে শেষ করেছিল তারা। তবে ২০২৪ সালের নেশনস লিগে আজারবাইজানের বিপক্ষে চার গোলসহ গাইওকেরেসের রেকর্ড নয় গোলের কল্যাণে লিগ ‘বি’-তে উন্নীত হওয়া দলটি প্লে-অফের অতিরিক্ত চার জায়গার একটি পেয়ে যায়। সেই লাইফলাইনকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান পরাশক্তিরা। ৪৯২ দিনের আন্তর্জাতিক গোলের খরা কাটিয়ে প্লে-অফে দলকে টেনে তোলেন গাইওকেরেস।
সুইডেনের এই নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের পেছনে সবচেয়ে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে গত অক্টোবরে গ্রাহাম পটারের প্রধান কোচ হিসেবে অন্তর্ভুক্তি। ব্রাইটনে খেলার সময় থেকেই পটারের অধীনে কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল গাইওকেরেসের। নতুন কোচের প্রশংসা করে এই স্ট্রাইকার বলেন, পটার দলে দারুণ এক ইতিবাচক শক্তি নিয়ে এসেছেন। মাঠের ভেতরে এবং বাইরে খেলোয়াড়দের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও মেলবন্ধন কতটা জরুরি, তিনি সেটি সবাইকে বুঝিয়ে দিয়েছেন। পটার তাদের স্পষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে এবং সুইডেনের হয়ে মাঠের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে শিখিয়েছেন।
কয়েক মাস আগেও র্যাংকিংয়ে অনেক পিছিয়ে থাকা লুক্সেমবার্গের কাছে হেরে যাওয়া কিংবা টানা ছয়টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে জয়হীন থাকা সুইডেন এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দল। ২০১৮ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের টিকিট পেয়ে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের মনে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছেন গাইওকেরেসরা। দলে নতুন ও তরুণ খেলোয়াড়দের আধিক্যের কারণে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লেগেছে স্বীকার করে গাইওকেরেস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের দলে যে বিশ্বমানের প্রতিভাবান ফুটবলার রয়েছেন, তা নিয়ে কখনোই সন্দেহ ছিল না। মাঠের রসায়নটা জমে উঠতেই তারা প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, বিশ্বমঞ্চ কাঁপাতে সুইডেন এখন পুরোপুরি প্রস্তুত।
সূত্র: ফিফা











































