Home আঞ্চলিক শিশু ফাতেমাকে কেড়ে নেওয়া মাজারের সেই কুমির এবার বন্দি, ঠাঁই হলো খুলনায়

শিশু ফাতেমাকে কেড়ে নেওয়া মাজারের সেই কুমির এবার বন্দি, ঠাঁই হলো খুলনায়

30

শরিফুল ইসলাম টিপু।।

বাগেরহাটের হযরত খানজাহান আলী (র.) মাজার সংলগ্ন দিঘির একমাত্র ঐতিহ্যবাহী মাদি কুমিরটিকে অবশেষে অপসারণ করা হয়েছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে দিঘি থেকে ধরে সেটিকে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছে। আজ বুধবার (৩ জুন) দুপুরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় বন বিভাগের কুমির বিশেষজ্ঞরা দিঘির পূর্ব পাড়ের একটি ছোট পুকুর থেকে কুমিরটিকে অক্ষত অবস্থায় ধরতে সক্ষম হন। পরে হাত-পা ও চোখ বেঁধে বন বিভাগের বিশেষ গাড়িতে করে সেটিকে খুলনায় আনা হয়।

বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাতে মাজারের দিঘিতে গোসল করতে নেমে ফাতেমা (৭) নামের এক শিশু এই কুমিরের আক্রমণের শিকার হয়। পরবর্তীতে দীর্ঘ তল্লাশি চালিয়ে শিশুটির নিথর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মাজারের দিঘিতে এমন মর্মান্তিক ও আকস্মিক প্রাণহানির ঘটনায় সমগ্র এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার রাতে জেলা প্রশাসনের এক জরুরি সভায় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিঘি থেকে কুমিরটি স্থায়ীভাবে সরিয়ে নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেক, বুধবার সকাল থেকেই বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মীরা মাজার এলাকায় বিশেষ উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দিঘির পূর্ব পাড়ে কুমিরটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর দুপুর ১২টার দিকে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে অত্যন্ত কৌশলে কুমিরটিকে কাবু করে বেঁধে ফেলা হয়। দিঘি থেকে তোলার পর দুপুরের দিকেই গাড়িযোগে সেটি খুলনার উদ্দেশে রওনা দেয়। বর্তমানে কুমিরটিকে খুলনা বন্যপ্রাণী পুনর্বাসন কেন্দ্রের নির্ধারিত জলাশয়ে রাখা হয়েছে।

বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন জানান, দিঘিতে শিশু নিহতের ঘটনার পর জননিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে মাজারের দিঘির কুমিরটি অপসারণের সিদ্ধান্ত হয় এবং সফলভাবে সেটি সম্পন্ন করে খুলনার পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

খুলনা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল জানান, উদ্ধার অভিযানে কোনো ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হয়নি। কুমিরটি বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ আছে এবং এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কোনো আক্রমণাত্মক আচরণ লক্ষ্য করা যায়নি। প্রাণীটির শারীরিক অবস্থা, আচরণ ও স্বাস্থ্য নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পরিচর্যা শেষে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী সেটিকে এখানে স্থায়ীভাবে পুনর্বাসন বা অন্যত্র স্থানান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।