Home Lead রামিসা হত্যা : সোহেল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ, শুনানি ১...

রামিসা হত্যা : সোহেল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ, শুনানি ১ জুন

12


ঢাকা অফিস।।


রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তারকে (৮) ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত। আগামী ১ জুন এই মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

রবিবার (২৪ মে) বিকেলে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এই আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে আজ বিকেল চারটার দিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। তদন্ত কর্মকর্তা জানান, আসামি সোহেল রানার বিরুদ্ধে সরাসরি ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এবং তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে এই হত্যাকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

মামলায় মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।


অভিযোগপত্র দাখিলের পর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেন। আজ শুনানির সময় দুই আসামিকে কড়া নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হলেও এজলাসে তোলা হয়নি।

এর আগে বুধবার বুধবার (২০ মে) প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

একই দিনে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্রের বিবরণ অনুযায়ী, রামিসা আক্তার স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে বাসা থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে ফুঁসলিয়ে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তার মা-বাবা। এক পর্যায়ে আসামির ফ্ল্যাটের দরজার সামনে রামিসার জুতো দেখতে পান তারা।

ভিতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে রামিসার পরিবার ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং ঘরের ভেতরে একটি বালতি থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্বপ্না আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি স্বীকার করেন, তার স্বামী সোহেল রানা রামিসাকে বাথরুমে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যা করেছেন। পরে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে ধারালো ছুরি দিয়ে মাথা কেটে আলাদা করা হয়, যৌনাঙ্গ ক্ষত-বিক্ষত করা হয় এবং দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর প্রতিবেশীরা জড়ো হলে ঘরের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান সোহেল রানা। পরে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।