শরিফুল ইসলাম টিপু
রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর গত প্রায় সাড়ে ৩ মাস ধরে খুলনার দিঘলিয়ায় ভৈরব নদের উপর ভৈরব সেতু নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। শুরু থেকে প্রকল্পটিতে ছিল ধীরগতি। আর এখন কাজ বন্ধ থাকায় কবে সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, গত ৫ আগস্টের আগে ভৈরব নদের দিঘলিয়া ও রেলিগেট দুই প্রান্তে ধীরগতিতে কাজ চলমান ছিল। কিন্তু সরকার পতনের পর থেকে এখনও কাজ বন্ধ রয়েছে। উভয় প্রান্তে যেসব নির্মাণসামগ্রী ছিল সেগুলো সেভাবেই পড়ে আছে। কাজ বন্ধ থাকায় ক্ষুব্ধ ভৈরব নদের দুই তীরের বাসিন্দারা।
দেয়াড়া গ্রামের ইব্রাহিম মোড়ল ও দিঘলিয়া গ্রামের আবু বক্কার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শুরু থেকেই খুবই ধীরগতিতে কাজ চলছিল। আর এখন সাড়ে ৩ মাস ধরে কাজ পুরোপুরি বন্ধ। ফলে কবে সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হবে তা অনিশ্চিত। বর্তমানে ফেরি ও ট্রলারে নদী পারাপারে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে সময় বেশি লাগছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের ২/৩ জন কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সরকার পতনের পর প্রতিষ্ঠানের মালিক বিপাকে পড়েছেন। তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্বাভাবিক লেনদেন করতে পারছেন না। সে কারণে আপাতত কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার এস এম নাজমুল জানান, অজ্ঞাত কারণে তারা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে বড় কোনো অঙ্কের টাকা তুলতে পারছিলেন না। সে কারণে কাজ বন্ধ রাখা হয়। সেই সংকট কেটে গেছে। শিগগিরই তারা আবার কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তিনি আরো জানান, সেতু নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অল্প কিছু জমি এখনও তাদেরকে বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। এছাড়া প্রকল্পের নকশায় কিছুটা পরিবর্তন হচ্ছে। ঢাকায় সড়ক ভবনে নকশা পরিবর্তনের কাজ চলছে। নতুন নকশা পেলে তখন আরও জোরালো গতিতে কাজ করা যাবে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর ভৈরব সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পায়। ২০২০ সালের ২৭ জুলাই প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হয়। ২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয়া হয়। এরপর ২০২১ সালের ২৪ মে কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু করোনা মহামারি এবং জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কাজে ধীরগতি দেখা দেয়ায় নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। পরে প্রকল্পের মেয়াদ দেড় বছর বৃদ্ধি করে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। সবশেষ প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। কিন্তু এ পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন হয়েছে মাত্র ১৫ শতাংশ।
ভৈরব সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬১৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। সেতুটির মোট দৈর্ঘ্য হবে ১ দশমিক ৩১৬ কিলোমিটার। সেতুর প্রশস্ততা হবে ১০ দশমিক ৩ মিটার। আর অ্যাপ্রোচ সড়ক হবে খুলনা প্রান্তে নগরীর মহসিন মোড় থেকে ভৈরব নদ পর্যন্ত ১ দশমিক ২৭ কিলোমিটার এবং দিঘলিয়া প্রান্তে ভৈরব নদ থেকে উপজেলা মোড় পর্যন্ত ২ কিলোমিটার।
এ ব্যাপারে প্রকল্প পরিচালক মো. আনিসুজ্জামান মাসুদ বলেন, ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শুরু করার জন্য চাপ দেয়া হয়েছে। দ্রুত তারা কাজ শুরু না করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সেতুর দিঘলিয়া অংশে প্রয়োজনীয় সব জমি অধিগ্রহণের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। রেলিগেট অংশে রেলওয়ের ২ দশমিক ৫১ একর জমি যাতে দ্রুত হস্তান্তর করা যায় সেই কার্যক্রম চলমান রয়েছে।











































