মাগুরা প্রতিনিধি।।
বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর মাগুরা সদরের বাহারবাগ গ্রামে দাদা-দাদির কাছে থাকত আকলিমা। পড়ত স্থানীয় একটি মাদ্রাসায়। এরই মধ্যে তাকে গৃহকর্মী হিসেবে নেওয়ার জন্য তার দাদা-দাদির কাছে প্রস্তাব দেয় গ্রাম্য প্রতিবেশী মাসুদুর রহমান বাবু ও তার স্ত্রী লিপি খাতুন। বাবু ও লিপি তাদের জানায়, ঢাকার মিরপুরের বাসায় তাদের শিশুপুত্রকে দেখাশোনা করবে আকলিমা। এজন্য থাকা-খাওয়া এবং প্রতি মাসে এক হাজার টাকা দেওয়া হবে তাকে। অভাবের সংসারের কথা ভেবে তার দাদা-দাদি এতে রাজি হন। তবে ঢাকায় গিয়ে এ অভিজ্ঞতা আর সুখকর হয়নি মেয়েটির। গৃহকর্তী লিপির নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছে আকলিমা। দীর্ঘ ১৮ মাস বাসায় বন্দি রেখে নির্যাতন চালানো হয়েছে তার ওপর। ঠিকমতো খেতেও দেওয়া হয়নি। ১১ বছরের আকলিমা হয়ে পড়েছে রোগাক্রান্ত ও হাড্ডিসার।
অবশেষে আকলিমাকে উদ্ধার করেছেন পরিবারের সদস্যরা। চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে। মাসুদুর রহমান বাবু ও তার স্ত্রী লিপি খাতুনের বিরুদ্ধে মাগুরা সদর থানায় মামলা করেছেন আকলিমার দাদা তজলু শেখ। বৃহস্পতিবার মাগুরা শহরের কলেজপাড়ায় বাবুর বাসা থেকে তার স্ত্রী লিপিকে গ্রেপ্তার করেছি পুলিশ। বাবু পলাতক রয়েছেন।
মাগুরা সদর উপজেলার বাহারবাগ গ্রামের কুবাদ শেখের মেয়ে আকলিমা। পারিবারিক এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় একটি ওষুধ কোম্পানিতে কর্মরত বাবু ও তার স্ত্রী লিপি বুধবার আকলিমাকে নিয়ে মাগুরায় আসে। আকলিমার স্বজনরা বৃহস্পতিবার তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তার মুখেই জানতে পারেন নির্যাতনের ঘটনা।
শিশুটির দাদি মনোয়ারা বেগম জানান, আকলিমাকে লিপি খাতুন এমন কোনো নির্যাত নেই যা করেনি। সুঁচ, খুন্তি, পেনসিল, কলমের খোঁচা ও ছ্যাঁকা পর্যন্ত দিয়েছে। শরীরের বিভিন্ন অংশে চড়, লাথি, বেত্রাঘাত ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। তাকে তিনবেলা খাবারও দেওয়া হতো না।
মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রফিকুল আহসান জানান, দীর্ঘদিনের অপুষ্টিতে শিশুটির শরীর কঙ্কালসার হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত লিপির স্বামী বাবুর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি নির্যাতনের কথা অস্বীকার করেন।
মাগুরা সদর থানার ওসি মঞ্জুরুল আলম বলেন, লিপি খাতুনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বাবুকে আটকের চেষ্টা চলছে।










































