স্পোর্টস ডেস্ক।।
পর্তুগাল জাতীয় দলের সঙ্গে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়ে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ‘সিআর সেভেনের’ মা।
জাতীয় দলের কোচ হোর্হে জেসুসের সাথে মতবিরোধের জেরে গত সপ্তাহে ডেনমার্কে পর্তুগালের অনুশীলন ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান রোনালদো। ঘটনার পরপরই চারদিকে তীব্র বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে, এমনকি জল গড়ায় রাজনীতির ময়দানেও।
এরপর তিনি একটি দীর্ঘ ও বিস্তারিত বিবৃতি দিয়ে নিজের পক্ষের ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন এবং তা ব্যবহার করে কোচ জেসুসের ওপর তীব্র আক্রমণ চালান। তিনি পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে আর কখনো মাঠে নামবেন কিনা, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা থেকে যাচ্ছে।
পর্তুগিজ ম্যাগাজিন টিভি ৭ ডিয়াস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৭১ বছর বয়সি মারিয়া দোলোরেস দো সাক্রামেন্তো দোস সান্তোস অ্যাভেইরো বলেন, ‘আমার মন খারাপ, আর এটাই স্বাভাবিক। বিষয়টায় আমি বেশ ধাক্কা পেয়েছি। আমার ছেলে তো রাজকীয়ভাবে (বড় দরজা দিয়ে) বিদায় নিতে পারত, অথচ তাকে পেছনের পথ (ছোট দরজা) দিয়ে বিদায় নিতে হলো। তবে এসব নিয়ে ভেবে লাভ নেই, যা করার উপরওয়ালাই করবেন।’
পুরো ঘটনার কারণে মারিয়া দোলোরেস একটু কেঁদেও ফেলেছেন জানিয়ে বলেন, ‘কান্না করলে মনটা হালকা হয়। এখন আমাদের এই কঠিন সময়টা পার করতে হবে।’
ক্যাম্প ছেড়ে আসার পর মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় রোনালদো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। রোনালদোর মায়ের মুখেই শোনা যাক ঠিক কী কথা হয়েছিল তাদের মধ্যে, ‘ও আমাকে বলল, মা, একদম চিন্তা কোরো না। আমরা সবাই যখন মিলিত হব, তখন আমি সত্যিটা খুলে বলব। আমি তখন উত্তর দিলাম, ঠিক আছে আমার বাবা, পরিস্থিতিটা আবারও নিজের পক্ষে ঘুরিয়ে নাও। ব্যস, এতটুকুই। আমি ওকে শান্ত থাকতে বলেছিলাম, কিন্তু ওর মেজাজ যা করানোর করিয়েই ছাড়ল। দেখা যাক কী হয়। আমি ওকে সব ধরনের সমর্থন দিয়েছি, যদিও তাতে খুব একটা কাজ হয়নি। তবে তাতে কিছু যায়-আসে না। সে পর্তুগালকে এত কিছু দিয়েছে, সে কারণেই সে সবসময় সবার হৃদয়ে থাকবে। সে সব সময়ই পর্তুগালের নায়ক ছিল।’
রোনালদোর মায়ের বিশ্বাস, পর্তুগালের মানুষ ‘রোনালদোকে ঠিক যতটা মূল্যায়ন করা উচিত, ততটা করে না। তবে আমাদের পর্তুগিজদের স্বভাবই তো এমন।’ সম্প্রতি তার বোন এলমা অ্যাভেইরো-ও সামাজিক মাধ্যমে রোনালদোর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
২০০৩ সালে পর্তুগালের হয়ে অভিষেকের পর থেকে রোনালদো জাতীয় দলের হয়ে ২৩৪টি ম্যাচ খেলেছেন এবং ১৪৬টি গোল করেছেন। ২০১৬ সালে তিনি পর্তুগালকে ইউরো কাপ জেতান, যা ছিল দেশের ফুটবলের ইতিহাসে প্রথম কোনো বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা।











































