স্পোর্টস ডেস্ক।।
অপেক্ষার প্রহর শেষ হয়ে আসছে। ১৮ দিন পর শুরু হবে ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাত ফুটবল বিশ্বকাপ। সারা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের তখন দৃষ্টি থাকবে ৪১০ থেকে ৪৫০ গ্রামের বলটির ওপর। তবে মহাযজ্ঞ শুরুর আগে নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা থেকে যাচ্ছে। দলের হিসেবে এবারই সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ আয়োজন করছে ফিফা। ৪৮ দলের বিশ্বকাপটি আবার প্রথমবারের মতো তিন দেশে হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দুই সঙ্গী হচ্ছে মেক্সিকো ও কানাডা। মেক্সিকোকে ঘিরে বিশ্বকাপে নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত ২২ ফেব্রুয়ারি দেশটির শীর্ষ মাদক কারবারি ‘এল মেনচো’ সামরিক অভিযানে নিহত হন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই মেক্সিকোর অন্তত ৮টি রাজ্যে তাণ্ডব শুরু করেছিল মাদক চক্রটির সদস্যরা।
অপরাধ জগতে এল মেনচো নামে পরিচিত হলেও তার আসল নাম নেমেসিও ওসেগুয়েরা সারভান্তেস। যিনি কুখ্যাত হালিস্কো নিউ জেনারেশন (সিজেএনজি) মাদক চক্রের নেতা। তার নিয়ন্ত্রণে থাকা সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ কোকেন ও প্রাণঘাতী ফেন্টানিল পাচার হতো। আর নিজ দেশের মাদকের নিয়ন্ত্রণ তো ছিলই।
এল মেনচোকে ধরতে তাই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর তার মাথার দাম ঘোষণা করেছিল ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রের সেই খায়েশ না মিটলেও তাদেরই গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যে নিহত হয়েছেন মেক্সিকোর শীর্ষ সন্ত্রাসী। অপরাধ জগতে নাম লেখানোর আগে ৫৯ বছর বয়সী মেনচো পুলিশের কর্মকর্তা ছিলেন। মেক্সিকোর মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্যে হালিস্কোর তাপালপা শহরে সেনাবাহিনীর অভিযানে শুধু মেনচো নন, সিজেএনজির আরও ৪ সদস্য নিহত হয়েছেন।
প্রিয় নেতা ও সঙ্গীদের হারিয়ে প্রতিশোধ নিতে মুখিয়ে সিজেএনজির সদস্যরা। হালিস্কো রাজ্যের মহাসড়কগুলো অবরোধ করে যানবাহন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আগুন ধরিয়ে দেয়। তাপালপা থেকে সড়ক পথে কমপক্ষে ১২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গুয়াদালাহারা শহরে বিশ্বকাপের ৪টি ম্যাচ আছে। গ্রুপ পর্বের ম্যাচ চারটি হবে এস্তাদিও একরন স্টেডিয়ামে। সবমিলিয়ে মেক্সিকোর তিন ভেন্যুতে বিশ্বকাপের মোট ১৩ ম্যাচ হবে।
মেনচোর মৃত্যুর সময় ৩ থেকে ৪ মাস পেরিয়ে গেলেও বিশ্বকাপের নিরাপত্তায় বড় ধরনের উদ্বেগের থেকে যাচ্ছেই। চক্রটির সদস্যরা চাইবেই দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে। তবে মেক্সিকোর সরকার ও ফিফা জানিয়েছে, তার মৃত্যুর প্রভাব পড়বে না বিশ্বকাপে।
দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শিনবাম বলেছেন, ‘বিশ্বকাপ দেখতে আসা দর্শকদের জন্য কোনো ঝুঁকি বা নিরাপত্তা হুমকি নেই।’ অন্যদিকে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, মেক্সিকোতে বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে তারা সম্পূর্ণ আশ্বস্ত এবং এটি একটি চমৎকার আসর হতে যাচ্ছে। ভেন্যু পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা ফিফার নেই।
দর্শক-সমর্থকদের আশ্বস্ত করেছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরাও। তাদের মতে, কার্টেল বা মাদক চক্রগুলো সাধারণত আন্তর্জাতিক পর্যটক বা ফিফা বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক ক্রীড়া ইভেন্টকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করে না। কারণ এতে তাদের ওপর বিশ্বব্যাপী চাপ ও মেক্সিকান সামরিক বাহিনীর আক্রমণ আরও জোরালো হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ফলে মূল টুর্নামেন্টের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
মেক্সিকোয় বিশ্বকাপ নির্বিঘ্নে শেষ করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরালো করেছে মেক্সিকো সরকার। গুয়াদালাহারায় বিশেষ নজর রাখার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
১ লাখ নিরাপত্তাকর্মী : বিশ্বকাপ চলাকালীন মেক্সিকোর তিন স্বাগতিক শহর (মেক্সিকো সিটি, মন্টেরি ও গুয়াদালাহারা) এবং পর্যটন এলাকাগুলোয় নিরাপত্তা জোরদারে প্রায় ১ লাখ সেনা ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে।
উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার : স্টেডিয়ামগুলোতে ফেস রিকগনিশন (মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ প্রযুক্তি), বিস্ফোরক বা রাসায়নিক হুমকি নিষ্ক্রিয়কারী রোবট এবং অ্যান্টি-ড্রোন ইউনিট ব্যবহার করা হবে। ১ কিলোমিটার দূর থেকেও যেন সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা যায় তার জন্য পুলিশের বিশেষ ড্রোন থাকবে।
গুয়াদালাহারায় বিশেষ নজর : এল মেনচোর অন্যতম ঘাঁটি এবং বিশ্বকাপের অন্যতম ভেন্যু গুয়াদালাহারার একরন স্টেডিয়ামে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কয়েক গুণ জোরদার করা হবে।









































