নড়াইল প্রতিনিধি।।
নড়াইল নার্সিং কলেজে সরকারি প্রজ্ঞাপন উপেক্ষা করে ৬ দিন আগেই শিক্ষার্থীদের ঈদের ছুটি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির প্রশিক্ষক সুতপা শিকদারের বিরুদ্ধে। রোববার (২৪ মে) সকালে প্রতিষ্ঠানটিতে সরেজমিনে গিয়ে কোনো শিক্ষার্থীকে পাওয়া যায়নি। শিক্ষার্থীদের ছুটির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রতিষ্ঠানটির ছাত্র প্রতিনিধি আশিক।
গত, ১৪ মে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জান্নাতুল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয় ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশব্যাপী সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত, আধা-স্বায়ত্বশাসিত এবং বেসরকারি অফিস আগামী ২৫ মে হতে ৩১ মে পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।
তবে সরকারি এ আদেশ অমান্য করে প্রশিক্ষক সুতপা শিকদার ব্যক্তিগত সুবিধার্থে নড়াইল নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীদের ১৯ মে থেকে ছুটি ঘোষণা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
নার্সিং কলেজ সূত্রে জানা যায়, চারটি ব্যাচে ১৯৮ জন শিক্ষার্থী নার্সিং কলেজে অধ্যায়নরত আছেন। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি কলেজটির অধ্যক্ষকে অভিযোগের প্রেক্ষিতে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। তখন থেকে প্রতিষ্ঠানটির প্রশিক্ষক সতুপা শিকদার অনানুষ্ঠানিক ভাবেই কলেজের সকল দায়িত্ব পালন করছেন। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৯ মে) শিক্ষার্থীদের ছুটি দেন। শিক্ষার্থীরা পর্যায়ক্রমে ওই দিন ও পরদিন বুধবার(২০ মে) কলেজের আবাসিক ছাত্রাবাস খালি করে যার যার বাড়ি চলে যান। সরেজমিনে বুধবার (২০ মে) কলেজটিতে গিয়েও প্রশিক্ষক সতুপা শিকদারকে পাওয়া যায়নি।
নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থী প্রতিনিধি আশিক মুঠোফোনে বলেন, ছুটি দেয়ার কথা ছিলো ২৪ তারিখ থেকে। তার তিনদিন আগেই আমাদের ছুটি দিয়েছেন ম্যাম (সতুপা শিকদার)।
শনিবার (২৩ মে) নার্সিং কলেজে গিয়েও প্রশিক্ষক সতুপা শিকদারকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা দূরদূরান্তে যাবে আর আমিও অসুস্থ মানুষ তাই আগেই ছুটি দিয়েছি।
সরকারি কলেজ নিয়মবহির্ভূত ভাবে ছুটি দেয়া যায় কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন-‘পার্শ্ববর্তী জেলার কলেজ সমূহের সাথে সমন্বয় করে একই সাথে ছুটি দিয়েছি। আর এ বিষয়টি জেলা সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসক মহোদয়ের অনুমতিক্রমে করেছি। ‘
তবে যশোর ও খুলনা নার্সিং কলেজে যোগাযোগ করা হলেও নড়াইল নার্সিং কলেজের প্রশিক্ষক সতুপা শিকদারের দেয়া বক্তব্যের সাথে কোনো মিল পাওয়া যায়নি।
এদিকে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুর রশিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্পষ্ট ভাবে জানান,’নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীদের ছুটির বিষয়টি তাকে কিছুই জানানো হয়নি।’
এদিকে রোববার (২৪ মে) নড়াইল নার্সিং কলেজে সরেজমিনে গেলে সময় সংবাদকে প্রতিষ্ঠানটির প্রশিক্ষক সতুপা শিকদার বলেন, আমি শিক্ষার্থীদের ২৫ মে থেকে ৬ জুন পর্যন্ত ছুটি দিয়েছি। এর আগে কোনো ছুটি দেইনি। শিক্ষার্থীদের ছুটি প্রসঙ্গে এমন দ্বিমুখী বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে, ‘তিনি বলেন কোন সময় কি বলছিলাম, অতো খেয়াল থাকে নাকি!’
এ বিষয়ে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতরের ঊর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।









































