Home আঞ্চলিক প্রশাসনের তোয়াক্কা না করেই রূপসায় অবৈধ পশুর হাট: নেপথ্যে অসাধু চক্র

প্রশাসনের তোয়াক্কা না করেই রূপসায় অবৈধ পশুর হাট: নেপথ্যে অসাধু চক্র

50


স্টাফ রিপোর্টার।।


আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রশাসনের কোনো প্রকার অনুমোদন বা অনুমতি ছাড়াই খুলনার রূপসা ব্রিজ টোল প্লাজা সংলগ্ন জাবুসা চৌরাস্তায় বসানো হচ্ছে বিশাল এক পশুর হাট। সরকারি নিয়মনীতি এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সম্পূর্ণ বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একশ্রেণীর অসাধু ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায় এই অবৈধ হাট বসানোর তোড়জোড় চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।


লিফলেট ও পোস্টারে জমজমাট প্রচারণা: অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাটের বৈধ কোনো ইজারা বা অনুমতি না থাকলেও মাঠ পর্যায়ে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জোরেশোরে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। ‘বিরাট গরু ছাগলের হাট’ শিরোনামে ছাপানো আকর্ষণীয় লিফলেটে উল্লেখ করা হয়েছে—আগামী শনিবার সকাল ৭টা থেকে শুরু করে কুরবানীর ঈদের আগের চাঁদ রাত পর্যন্ত এই হাট চলবে। এমনকি হাটের হাসিল খরচও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রতি গরুর হাসিল ১,০০০ টাকা এবং প্রতি ছাগলের হাসিল ৩০০ টাকা দাবি করা হচ্ছে।


প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য: স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রূপসা ব্রিজের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকায় পশুর হাট বসলে তীব্র যানজট, জনদুর্ভোগ এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই কারণে প্রশাসন এই হাটের কোনো অনুমোদন দেয়নি। কিন্তু প্রশাসনের এই নিষেধাজ্ঞাকে বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা করছে না প্রভাবশালী অসাধু চক্রটি। তারা নিজেদের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জোরপূর্বক জাবুসা চৌরাস্তায় হাটের অবকাঠামো তৈরি করছে।


নেপথ্যে অসাধু নেতাদের সিন্ডিকেট: স্থানীয় সাধারণ ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই অবৈধ হাটের নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছেন এলাকার কয়েকজন অসাধু ও প্রভাবশালী নেতা। প্রতি বছর কুরবানীর ঈদকে কেন্দ্র করে বিপুল অঙ্কের অবৈধ হাসিল বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে তারা প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ করে এই হাট বসাচ্ছেন। এই সিন্ডিকেটের কারণে সরকারের লাখ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি পড়ার পাশাপাশি সাধারণ ক্রেতা ও বিক্রেতারা চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ দাবি: অনুমোদনহীন এই অবৈধ পশুর হাট নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রূপসা মহাসড়ক ও টোল প্লাজা এলাকার স্বাভাবিক যান চলাচল সচল রাখতে এবং সরকারি আইন কার্যকর করতে এই অবৈধ হাটের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য খুলনা জেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।