Home Lead নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারেন বন্ধ পাটকল শ্রমিকরা, চালুর আশ্বাস প্রার্থীদের

নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারেন বন্ধ পাটকল শ্রমিকরা, চালুর আশ্বাস প্রার্থীদের

17


স্টাফ রিপোর্টার।।

লোকসানে থাকায় ২০২০ সালের পহেলা জুলাই খুলনার ৯টিসহ মোট ২৫টি পাটকল বন্ধ করে দেয় সরকার। কর্মকর্তা-কর্মচারী বাদে ছাঁটাই করা হয় এসব কারখানার ৩৩ হাজারের বেশি শ্রমিক। কাজ হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন অনেক শ্রমিক। আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এসব শ্রমিক গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারেন।


নিজেদের দুর্দশার কথা জানিয়ে বহুদিন ধরে বন্ধ হয়ে যাওয়া পাটকলগুলো ফের সরকারি মালিকানায় চালু এবং বকেয়া পরিশোধের দাবি জানিয়ে আসছেন শ্রমিকরা।

শ্রমিকরা বলেন, যে প্রার্থীই জয়ী হোক, যে-ই সরকার গঠন করুক; আমরা শ্রমিক, আমাদের এই মিলকারখানা চালু করবে, রাষ্ট্রীয় মিল রাষ্ট্রীয়ভাবে চালু করবে—এটিই আমাদের দাবি।

সরকার এসে বকেয়া পরিশোধ করবে এমনটি প্রত্যাশা করে তারা বলেন, এই জুটমিলে বহু টাকা বকেয়া আছে, সরকার এসে বকেয়া পরিশোধ করবে। যখন জুটমিল চালু ছিল, তখন শ্রমিকদের সন্তানরা এখানে পড়াশোনার সুযোগ পেত, এখন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমাদের সন্তানরা অশিক্ষিত থেকে যাচ্ছে।

যারাই পাটকল চালুর উদ্যোগ নেবেন, তাদের পক্ষেই থাকবেন জানিয়ে শ্রমিকরা বলেন, ভোটের সময় এলে অনেকে অনেক রকম কথা বলে, অনেক আশ্বাস দেয়। ভোট শেষ হলে আমাদের কথা কেউ ভাবেও না, আমাদের কথা তারা চিন্তাও করে না।


ভোট সামনে রেখে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরাও আশ্বাস দিচ্ছেন নির্বাচিত হলে আবারও চালু হবে পাটকল।

খুলনা-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, আমরা চাচ্ছি নতুন করে আমাদের এই বন্দর কলকারখানগুলো চালু হবে। আরও বেশি উন্নত যন্ত্রপাতি দিয়ে এই মিলগুলো আমরা চালু করব। শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা ও তাদের সন্তানদের লেখাপড়ার বিষয়ে আমি আমার দলের পক্ষ থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

কলকারখানা চালুর আশ্বাস দিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, আল্লাহ যদি আমাদের মানুষের সেবা করার সুযোগ দেন, আমরা বন্ধ কলকারখানাগুলো চালু করব, ইনশাআল্লাহ। পাশাপাশি আমরা আরও নতুন কলকারখানা স্থাপনের মধ্য দিয়ে মানুষের বেকারত্বের সমস্যা সমাধান করতে চেষ্টা করব।

এ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আব্দুল আওয়াল বলেন, দেশের উন্নয়ত তো কেবল রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হলেই হয় না। উন্নয়ন মানেই হলো উৎপাদন এবং উৎপাদনের কেন্দ্রবিন্দু হলো মিলকলকারখানা।

উল্লেখ্য, বর্তমানে খুলনা অঞ্চলের কিছু পাটকল ইজারার মাধ্যমে বেসরকারিভাবে সীমিত আকারে চালু আছে।