ঢাকা অফিস
প্রাথমিকভাবে ৬০০ পরিবারের কাছে ফ্ল্যাট হস্তান্তরের মাধ্যমে কক্সবাজার ‘খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্পে’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) এ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন তিনি।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আশরাফুল আফসার জানিয়েছেন, এরই মধ্যে উদ্বোধনের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৯টি ভবনের কাজ শেষ হয়েছে। এসব ভবনের ফ্ল্যাটগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে উপকারভোগীদের হস্তান্তর করতে ১৪ জুলাই কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে লটারির ড্র সম্পন্ন হয়। লটারির ভিত্তিতে ৬০০ পরিবারের মধ্যে ফ্ল্যাটগুলো বুঝিয়ে দেয়া হবে।
প্রথম ধাপে ৬০০ পরিবারের পর পর্যায়ক্রমে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার পরিবারকে পুনর্বাসন করা হবে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় আশ্রয়কেন্দ্র শেখ হাসিনা আশ্রয়ণ প্রকল্পে। ১ হাজার ১ টাকার নামমাত্র মূল্যে এসব ফ্ল্যাট দেওয়া হচ্ছে। প্রথম ধাপে ৬০০ পরিবারকে ফ্ল্যাট হস্তান্তরের পর বাকি ফ্ল্যাটগুলো পর্যায়ক্রমে হস্তান্তর করা হবে।
প্রকল্পে প্রথম পর্যায়ে নির্মিত হয়েছে ৫ তলা ১৯টি ভবন। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ১৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই আশ্রয়কেন্দ্রে মোট ১৩৯টি ভবন নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি পাঁচতলা ভবনে থাকছে ৪৫৬ বর্গফুট আয়তনের ৩২টি করে ফ্ল্যাট।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, সাড়ে চার হাজার পরিবারের প্রায় ২০ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে পুনর্বাসন করতে সরকার ‘শেখ হাসিনা আশ্রয়ণ প্রকল্প’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নেয়। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল ইউনিয়নের বাঁকখালী নদীর তীরঘেঁষা প্রায় ২৫৩ দশমিক ৩৫০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এ প্রকল্পে ১৩৭টি পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করা হবে, যার মধ্যে শেখ হাসিনা টাওয়ার নামে একটি ১০তলাবিশিষ্ট সুউচ্চ ভবনও থাকবে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধায়নে ২০১৭ সালে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে ১৯টি ভবনের কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ভবনগুলোর কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে।
প্রকল্প পরিচালক মো. মাহবুব হোসেন জানান, প্রকল্প এলাকায় ১৪টি খেলার মাঠ, সবুজ জায়গা, মসজিদ, মন্দির, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পুলিশ ও ফায়ার স্টেশন, তিনটি পুকুর, নদীতে দুটি জেটি, দুটি বিদ্যুতের সাবস্টেশন থাকবে। থাকবে ২০ কিলোমিটার অভ্যন্তরীণ রাস্তা, ৩৬ কিলোমিটার ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য পরিশোধন ও নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা, তীর রক্ষা বাঁধ, ছোট সেতু, পুকুর-খাল থাকবে পুরো প্রকল্প এলাকায়।
আশ্রয়ণ প্রকল্পে যারা ফ্ল্যাট পাবেন তাদের ঋণ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা হবে। প্রকল্প এলাকায় একটি শুঁটকি মহালও থাকবে এবং এখানে পর্যায়ক্রমে বিক্রয় কেন্দ্র ও প্যাকেজিং শিল্পও গড়ে তুলবে সরকার।
ভবনগুলোর নাম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই রেখেছেন। ভবনগুলো হলো- দোঁলনচাপা, কেওড়া, রজনীগন্ধা, গন্ধরাজ, হাসনাহেনা, কামিনী, গুলমোহর, গোলাপ, সোনালী, নীলাম্বরী, ঝিনুক, কোরাল, মুক্তা, প্রবাল, সোপান, মনখালী, শনখালী, বাঁকখালী, ইনানী ও সাম্পান।
গৃহহীন ও ছিন্নমূল মানুষের পুনর্বাসনের জন্য ১৯৯৭ সালে ‘আশ্রয়ণ’ নামে প্রথম প্রকল্প গ্রহণ করেন তৎকালীন শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। এরপর ২০১০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আবার ক্ষমতায় আসলে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প শুরু হয়। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্নমূল ৩ লাখ ১৯ হাজার ১৪০টি পরিবার ঘর পেয়েছে। অন্যান্য আশ্রয়কেন্দ্রগুলো পাকা ও আধাপাকা দালানের ব্যারাক আকারে তৈরি হলেও বহুতল ভবনের আশ্রয়ণ প্রকল্প এটিই প্রথম।
১৯৯১ সালের মহা প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের পর বসতভিটা হারিয়ে কুতুবদিয়া, মহেশখালীর হাজার হাজার মানুষ কক্সবাজার পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের বিমানবন্দর সংলগ্ন নাজিরারটেক, কুতুবদিয়া পাড়া ও সমিতি পাড়ায় সরকারি খাস জমিতে বসতি শুরু করে।
কক্সবাজার পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এস এম আকতার কামাল বলেন, যেখানে বিভিন্ন সময় ঘূর্ণিঝড়সহ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে উদ্বাস্তু হয়ে আশ্রয় নিয়েছে ঐ সব এলাকার ৬০ হাজার মানুষ। কিন্তু বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক রূপান্তরে আশেপাশের সরকারি খাস জমিতে বসবাসরত উদ্বাস্তু বাসিন্দাদের স্থানাস্তরের উদ্যোগ নেয় সরকার।
কক্সবাজারের অতিরিক্তি জেলাপ্রশাসক (রাজস্ব) আসরাফুল আবছার জানান, ২০১৬ সালে বাঁকখালী নদীর কিনারা ঘেষে কক্সবাজার সদরের খুরুশকুলে প্রায় ২শ ৫৪ একর জমিতে নেয়া হয় খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্পের উদ্যোগ। ২০১৭ সালের মার্চে কার্যাদেশের পর বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে চলে এ প্রকল্পের কাজ।











































