Home আঞ্চলিক মেহেরপুরে পতিত জমিতে পুষ্টি বাগান

মেহেরপুরে পতিত জমিতে পুষ্টি বাগান

8

মেহেরপুর প্রতিনিধি।।
মেহেরপুর দিঘীরপাড়া গ্রামের ঝনা খাতুন। তার বাড়ির পাশে কয়েক শতক জমি পতিত হিসেবে পড়েছিলো। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে পরামর্শে বাইরে থেকে মাটি এনে শুরু করেন বেড তৈরির কাজ। বিনামূল্যে বীজ ও সার পেয়ে শুরু করেন সবজি বাগান। সেখান থেকে আলু, পেয়াজ, বেগুন, টমেটো, লালশাক সহ নানা ধরনের সবজি উৎপাদন করছেন তিনি। কোনো ধরনের কীটনাশক ও অতিরিক্ত সার ব্যবহার না করে তিনি এসব সবজি উৎপাদন করেছেন। এতে পরিবার পাচ্ছে নিরাপদ সবজি যা তাদের পুষ্টির চাহিদা মিটছে। তার মতো অনেকেই বাড়িতে সবজি বাগান করে পেয়েছেন সফলতা। নিজের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করে বাড়তি টাকা আয়ও করছেন।

জানা গেছে, প্রধান মন্ত্রীর ঘোষণা এক ইঞ্চি জমিও পতিত থাকবেনা। সেই লক্ষে মেহেরপুরে অনাবাদী পতিত জমিতে বসত বাড়ি স্থাপনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় শুরু হয়েছে সবজি বাগানের কাজ। সফলতাও মিলেছে। সেখান থেকে পারিবারিকভাবে নিরাপদ সবজি উৎপাদন করতে পারছেন তারা। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বিক্রি করে কিছুটা অথচ উপার্জন
করছেন তারা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় ৩১৫ হেক্টর জমি পতিত রয়েছে। ইতোমধ্যে ২০ হেক্টর জমি আবাদের আওতায় আনা হয়েছে। বাছাই করা হয়েছে সরকারি অফিসের পতিত জমিগুলোও। সাথে বাড়ির আঙিনা অথবা পড়ে থাকা পতিত জমি। তাদের তালিকা তৈরি করে কৃষি বিভাগের মাধ্যমে বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে সার, বীজ, ঘেরাবেড়া সহ অন্যান্য সরঞ্জাম। দেওয়া হচ্ছে প্রশিক্ষণও। যাতে পারিবারিকভাবে নিরাপদ সবজি উৎপাদন করতে পারেন তারা। শুধু বাড়ির পতিত জমি নয়, সরকারী অফিসের পরিত্যক্ত জমিগুলোও আনা হয়েছে চাষের আওতায়। পুলিশ লাইনের প্রায় সাড়ে ৪ বিঘা জমিতে এখন সবজির বাগান। রয়েছে পেয়ারা ও বিদেশি ফল ড্রাগনের বাগান।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা চাইনা পারভিন জানান, সরকারি অফিসের পতিত জমি ও বসতবাড়ির পড়ে থাকা জমিগুলো নির্বাচন করে তাদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে নানান সুযোগ সুবিধা। সুবিধা পেয়ে অনেকেই সবজি ও পুষ্টি বাগান তৈরি করেছেন। সেখান থেকে পাচ্ছেন নিরাপদ সবজি। যা দিয়ে পরিবারের চাহিদা মেটাচ্ছেন। কেউ কেউ বিক্রি করছেন।

সরকারি পুলিশ লাইনের আরও জহিরুল ইসলাম জানান, ভেতরে খেলার মাঠে ছাড়াও সাড়ে ৪ বিঘা জমি পড়েছিলো। আশপাশে জঙ্গলে ভরা ছিল। কৃষি কর্মকর্তা চাইনা পারভিনের সহায়তায় সেগুলো পরিষ্কার করে ট্রাকটার দিয়ে চাষের আওতায় আনা হয়। একদিকে পেয়ারা বাগান, অন্যদিকে ছোট্ট একটি ড্রাগন ফলের বাগান তৈরি করা হয়েছে। আর একপাশে গড়ে তোলা হয়েছে সবজি ও পুষ্টি বাগান। যেখান থেকে উৎপাদন করা হচ্ছে লাউ, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, গাজর, বেগুন, আলু, ক্যাপসিক্যাম সহ নানা ধরনের ফসল। সার ও কীটনাশকের ব্যবহার নেই বললেই চলে। এখান থেকে নিরাপদ সবজি আমরা উৎপাদন করতে পারছি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শঙ্কর কুমার মজুমদার জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পতিত জমিগুলোকে চাষের আওতায় আনা হচ্ছে। সেখান থেকে উৎপাদন করা হচ্ছে নিরাপদ সবজি সহ নানা ধরনের ফলজ বাগান। প্রকল্পের কাজ ছড়িয়ে দেবার চেষ্টা চলছে তিন উপজেলায়। যাতে পারিবারিকভাবে পরিবারগুলো পুষ্টির চাহিদা মেটাতে পারেন পাশাপাশি বাড়তি আয়ের জন্য উৎপাদিত সবজি বাজারে বিক্রি করতে পারেন। এতে সরকারের যে লক্ষ্য সেটি পূরণ হবে।