স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনায় বিকাশ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া সুসংগঠিত প্রতারক ও হ্যাকার চক্রের বিরুদ্ধে বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের হলেও দীর্ঘ সময় পার হলেও কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এমনকি প্রযুক্তির সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ও ট্রানজেকশন নম্বর সরবরাহের পরও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
নথিসূত্রে জানা যায়, গত ২১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের বাসিন্দা মো. আসাদ শেখের ব্যবহৃত বিকাশ নম্বরে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে অবৈধ অনুপ্রবেশ করে ৪৮,৪০০ টাকা সরিয়ে নেয় একদল অজ্ঞাতনামা হ্যাকার। ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে রূপসা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ১১৫৬) হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইনস্পেক্টর মশিউর রহমান বিকাশ ট্রানজেকশনের তথ্য বিশ্লেষণ করে যেসব অ্যাকাউন্টে টাকা স্থানান্তর করা হয়েছিল, সেসব সুনির্দিষ্ট ৭টি বিকাশ নম্বর শনাক্ত করে ভুক্তভোগীকে সরবরাহ করেন।
থানায় মামলা গ্রহণে তালবাহানা করায় এবং খোয়া যাওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে কোনো সুফল না পেয়ে ভুক্তভোগী মো. আসাদ শেখ বাদী হয়ে খুলনা বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনালে সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬-এর ১৭(২), ১৮(২), ১৯(২), ২১(২), ২২(২), ২৩(২), ২৪(২) ও ২৭(২) ধারায় নালিশী মামলা (সিআর নং- ৩২/২৬) দায়ের করেন।
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে গোয়েন্দা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, ডিজিটাল অপরাধে ব্যবহৃত একাধিক সিম ও বিকাশ নম্বর সম্পর্কিত স্পষ্ট তথ্য নথিভুক্ত থাকা সত্ত্বেও অপরাধীদের চিহ্নিত বা গ্রেফতার করতে সমর্থ হয়নি সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থা।
ভুক্তভোগী আসাদ শেখ বলেন, “সব ধরণের প্রযুক্তিগত প্রমাণ ও বিকাশ অ্যাকাউন্ট নম্বর পুলিশকে দেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত হ্যাকার চক্রের কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি এবং আমার কষ্টার্জিত টাকাও উদ্ধার করা যায়নি। প্রতারক চক্রটি প্রকাশ্যে এখনও ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং অবাধে অন্যান্য সাধারণ গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে টাকা লুটে নিচ্ছে।”
এ বিষয়ে দ্রুত ও কার্যকর তদন্তের মাধ্যমে ডিজিটাল হ্যাকার চক্রটিকে গ্রেফতার পূর্বক আইনের আওতায় এনে খোয়া যাওয়া টাকা উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীসহ এলাকার সচেতন মহল।








































