স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনা নগরীর শীর্ষ সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ক্যাডার হিসেবে পরিচিত মোরশেদ আহম্মেদ রিপন ওরফে ‘শুটার রিপন’ (৪০)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ নগরীর পশ্চিম বানিয়াখামার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁর নিজ বাসভবন থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তাঁকে খুলনার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) ফারুখ ইকবালের আদালতে সোপর্দ করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক তাঁকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আসামির পরিচয় ও পেছনের কথা:
গ্রেপ্তারকৃত মোরশেদ আহম্মেদ রিপন নগরীর পশ্চিম বানিয়াখামার এলাকার আব্দুল আলিমের ছেলে। স্থানীয়ভাবে তিনি যুবলীগের সক্রিয় কর্মী এবং বহুল আলোচিত ‘শেখ বাড়ির ক্যাডার’ শওকতের ছোট ভাই হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সরাসরি অস্ত্র ব্যবহারের কারণে এলাকায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে ‘শুটার রিপন’ নামে পরিচিত ছিলেন।
মামলার বিবরণী ও পুলিশের ভাষ্য:
সোনাডাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাদিম মাহমুদ জানান, সম্প্রতি দেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলার অন্যতম আসামি রিপন।
ঘটনার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ১৬ জুলাই সকাল পৌনে ৬টার দিকে সোনাডাঙ্গা থানা এলাকার ‘হোটেল আল কদর’-এর সামনে রিপনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মী বেআইনিভাবে একত্রিত হয়। সেখানে তারা বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র, খুলনা মহানগরের স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনার ক্ষতিসাধন এবং অন্যান্য জেলা ও উপজেলার সাথে খুলনার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করার উদ্দেশ্যে সড়ক অবরোধ করে ভাঙচুর ও রাস্তায় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, সেখানে উপস্থিত আসামিরা রাষ্ট্রবিরোধী মিছিল নিয়ে শিববাড়ি মোড়ের দিকে অগ্রসর হয় এবং ‘জয় বাংলা, শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’—সহ নানা উসকানিমূলক ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টিকারী স্লোগান দেয়।
এ ঘটনায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে সোনাডাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফারুক আলম বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলায় সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে ও অপরাধে প্রত্যক্ষ জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ রিপনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ জানায়, নগরীতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং কোনো ধরনের সন্ত্রাসী ও রাষ্ট্রবিরোধী অপতৎপরতা বরদাশত না করতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। রিপনের বিরুদ্ধে অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্যও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।











































