১ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয় ২০২৩ সালে
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।
খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় কোনো ডেন্টাল কলেজ নেই। বিভাগের সরকারি পাঁচ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটিতেও নেই স্বতন্ত্র ডেন্টাল ইউনিট। অভিজ্ঞ চিকিৎসক সংকটের কারণে দাঁতের গুরুতর রোগের জন্য ঢাকায় ছুটতে হয় মানুষকে। এমন পরিস্থিতিতে ২০১৯ সালে খুলনায় দেশের দ্বিতীয় সরকারি ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয় তৎকালীন সরকার।
বিভিন্ন ধাপ পার হয়ে প্রকল্পটি প্রি-একনেকে ওঠার অপেক্ষায় ছিল। এর মধ্যে ২০২৪ সালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে এটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আটকে রয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, নতুন সরকার গঠনের পর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের আগ্রহ অনুযায়ী প্রকল্প তৈরি ও অনুমোদন হচ্ছে। খুলনা ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতালের বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা কেউ এখন পর্যন্ত আগ্রহ দেখাননি। এত বড় প্রকল্প রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া এগিয়ে নেওয়া কঠিন।
নথি ঘেঁটে দেখা যায়, ২০১৯ সালের ৮ ডিসেম্বর তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনার ড. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার খুলনায় একটি ডেন্টাল কলেজ স্থাপনের অনুরোধ জানিয়ে স্বাস্থ্য সচিবকে চিঠি দেন। একই বছরের ৩১ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণে সম্মতি দেন। ২০২০ সালের ২৮ অক্টোবর নগরীর লবণচরা থানার পাশে জমি চিহ্নিত করে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠায় জেলা প্রশাসন।
২০২১ সালের ২৯ নভেম্বর স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (ডেন্টাল শিক্ষা) ডা. মোশাররফ হোসেন খন্দকারকে খুলনা ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা জরিপে পরিচালক নিয়োগ দেয় সরকার। জরিপ শেষে ২০২৩ সালে প্রকল্প প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়। এর আগে একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর জন্য কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে প্রকল্প অনুমোদন না হওয়ায় একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়নি।
প্রায় ১ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাবে ২০ একর জমিতে ৫০০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল, ১৩ তলা একাডেমিক ভবন, ছাত্র ও ছাত্রী হল, পুরুষ ও নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ডরমিটরি, একাধিক আবাসিক ভবন, মর্গ ও মরচুয়ারি এবং ডিএনএ পরীক্ষার আধুনিক ল্যাব থাকার পরিকল্পনা ছিল। ২০২৩ সালের ১ জুলাই থেকে শুরু হয়ে এই বছরের ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার প্রস্তাব ছিল। আধুনিক দন্ত কলেজ ও হাসপাতালে ২৮টি বিভাগ থাকবে। কলেজটি থেকে প্রতিবছর ১২০ জন চিকিৎসক তৈরি হবেন।
প্রকল্প পরিচালক ডা. মোশাররফ অবসরে গেছেন। বর্তমানে খুলনা ডেন্টাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. অনুপম পোদ্দারই প্রকল্পের বিষয় দেখাশোনা করছেন। তিনি বলেন, গত বছর ১২ আগস্ট প্রকল্পের সর্বশেষ সভাটি স্থগিত করা হয়। এরপর ফাইলটি সেখানেই রয়েছে। সম্প্রতি প্রকল্পটি কেটে ছোট করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এতে সব কাজ আরও কয়েক বছর পিছিয়ে যেতে পারে।
বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, দাঁতের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসার সামর্থ্য এ অঞ্চলের মানুষের নেই। বিভাগের প্রায় দুই কোটি মানুষের কষ্ট লাঘবে একটি দন্ত কলেজ ও হাসপাতাল খুবই জরুরি। বর্তমান সরকার ও জনপ্রতিনিধিদের উচিত এ অঞ্চলের মানুষের সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য কাজ করা।
খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, প্রকল্প সম্পর্কে অবগত নই। বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নেব এবং দ্রুত যাতে কাজ হয়, এ জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব।-সমকাল









































