জাহিদুর রহমান।।
খুলনার লবণচরা থানাধীন রূপসা নদীর কোলঘেঁষে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ‘শুন শিং সিমেন্ট মিলস লিমিটেড’ (সেভেন রিং সিমেন্ট ফ্যাক্টরি) সংলগ্ন জমি দখল ও মিথ্যা অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কথিত ‘রফিক বাহিনী’র বিরুদ্ধে। সিমেন্ট কোম্পানির ক্রয়কৃত নিজস্ব জমিতে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালাতে গেলে রফিক বাহিনীর সন্ত্রাসীরা বাধা প্রদান করে এবং পরবর্তীতে ঘটনাটিকে উল্টো ঘুরিয়ে মিডিয়াতে কোম্পানির নামে ‘ভূমিদস্যুতা’ ও ‘জমি দখল’-এর ভিত্তিহীন মিথ্যা অপপ্রচার চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, রূপসা নদীর পাশ ঘেঁষে অবস্থিত ওই জমির মূল মালিক আসাদুজ্জামান বনির মামা। পরবর্তীতে সুন শিং কোং (সেভেন রিং সিমেন্ট)-এর পক্ষে প্রতিষ্ঠানের অ্যাডভাইজার মো. এরশাদ আলী নিয়মমাফিক ও আইনানুযায়ী জমির মূল মালিকের কাছ থেকে কোম্পানির নামে উক্ত সম্পত্তি ক্রয় করেন। ক্রয়সূত্রে জমিটি দীর্ঘদিন ধরেই সিমেন্ট কোম্পানির নিরঙ্কুশ দখলে রয়েছে।
কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জমিটিতে এখনো পর্যন্ত স্থায়ী কোনো ভারী স্থাপনা তৈরি না করায় এতদিন সেখানে ঝোপঝাড়, বিভিন্ন আগাছা ও ময়লা-আবর্জনা জমে ছিল। গত বৃহস্পতিবার সেভেন রিং সিমেন্ট ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কর্মচারীরা নিজস্ব মালিকানাধীন ওই জমিতে ঝোপঝাড় কেটে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে যান। ঠিক তখনই কোনো ধরনের আইনি ভিত্তি ছাড়াই হঠাৎ রফিক বাহিনীর কতিপয় লোক ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হয় এবং জমিটি তাদের বলে দাবি করে কাজ বন্ধ করতে বাধা দেয়।
একপর্যায়ে রফিক বাহিনীর সদস্যরা জোরপূর্বক জমিটি দখলের চেষ্টা চালালে সেভেন রিং সিমেন্ট ফ্যাক্টরির অ্যাডভাইজার এরশাদ আলী তাত্ক্ষণিকভাবে লবণচরা থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আইনি সহযোগিতা চান। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবং পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রফিক বাহিনীর সন্ত্রাসীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ে।
ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গিয়ে রফিক বাহিনী নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে উল্টো সেভেন রিং সিমেন্ট ফ্যাক্টরির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। তারা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কোম্পানির নামে মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করে ভুয়া ‘ভূমিদস্যু’ ও ‘জমি দখলদার’ হিসেবে ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালাতে থাকে।
উভয় পক্ষের মধ্যে উদ্ভূত এ বিরোধের সুষ্ঠু নিষ্পত্তির লক্ষ্যে লবণচরা থানা পুলিশ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সেভেন রিং সিমেন্ট কর্তৃপক্ষ ও রফিক বাহিনীকে থানায় ডেকে পাঠায়। কিন্তু সেভেন রিং সিমেন্ট কর্তৃপক্ষ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে যথা সময়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে থানায় হাজির হলেও দ্বিতীয় পক্ষ অর্থাৎ ‘রফিক বাহিনী’ কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পেরে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত থাকে।
ঘটনা প্রসঙ্গে সেভেন রিং সিমেন্ট ফ্যাক্টরির অ্যাডভাইজার মো. এরশাদ আলী তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আমরা দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে প্রতিনিয়ত নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় কাজ করে যাচ্ছি। পুলিশের আহ্বানে কয়েকবার থানায় উপস্থিত হয়ে সমস্ত বৈধ নথিপত্র উপস্থাপন করেছি। কিন্তু রফিক বাহিনী কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পেরে অপকৌশল অবলম্বন করছে এবং ভূঁইফোড় মিডিয়ায় আমাদের নামে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়িয়ে একটি সুপ্রতিষ্ঠিত শিল্প প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক সুনাম নষ্ট করতে চাচ্ছে। আমরা প্রশাসনের কাছে এই সংঘবদ্ধ দখলবাজ চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত রফিকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া য়ায়নি।
লবণচরা থানা এলাকার সচেতন মহল ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, একটি স্বনামধন্য শিল্প প্রতিষ্ঠানের বৈধ জমিতে এভাবে পেশিশক্তি প্রদর্শন এবং পরবর্তীতে মিডিয়াতে বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালানো অত্যন্ত নিন্দনীয়। অবিলম্বে এই চক্রের নেপথ্য কুশীলবদের খুঁজে বের করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।










































