স্টাফ রিপোর্টার।।
নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরাই যদি রাতে একা চলাচল করতে না পারেন, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায় গিয়ে ঠেকবে—এই প্রশ্ন এখন খুলনার সচেতন মহলে জোড়ালোভাবে উঠেছে। সম্প্রতি জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে রাতে পুলিশ সদস্যদের একা চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারির পর জনমনে এই চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নগরীর খানজাহান আলী রোডের খুলনা কলেজিয়েট স্কুলের সামনে ছিনতাইকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হন জেলা পুলিশের ‘এ সার্কেল’ অফিসে কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলম। রূপসা থানায় বিশেষ অভিযান শেষে ফেরার পথে এই নৃশংস হামলার শিকার হন তিনি। তাঁর দুই হাতের কবজিতে আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় প্রথমে রাজবাড়ী ও পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।
এই ঘটনার জেরে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) পুলিশ সুপার স্বাক্ষরিত এক দাফতরিক চিঠিতে (স্মারক নম্বর- ৫০৬২) জেলার রূপসা, তেরখাদা, দিঘলিয়া ও বটিয়াঘাটা থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালীন ও রাতে পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত সুরক্ষায় একা চলাচল না করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়। ইউনিট ইনচার্জদের এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
পুলিশের এই অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার নির্দেশনার পর নাগরিক সমাজ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
আইনজীবী বাচ্চু শেখ এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটা খুবই দুঃখজনক। পুলিশকে রাতে একা চলতে সতর্কতা দরকার হলে সাধারণ মানুষের আশা ভরসা কোথায়? হ্যাঁ, পুলিশকেও ঝুঁকিমুক্ত থাকতে হবে। কিন্তু সেটা অভ্যন্তরীণভাবে করার সুযোগ ছিল। কিন্তু এভাবে ওপেন ঘোষণা দিয়ে পুলিশকে সতর্ক করলে সাধারণ মানুষ আরও সংকটে পড়তে পারে।”
নারী নেত্রী সিলভী হারুন বলেন, “পুলিশের রাতে একা চলাচলে সংকট হলে সাধারণ মানুষের পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ তা উপলব্ধি করা যায়। আর নারীরা তো আরও অসহায়। ঢাকায় ভোর ৪টা থেকে বাস। এসব বাসে নারী, পুরুষ ও শিশুও থাকে। ভোর ৬টায় ট্রেনেও একই অবস্থা। পুলিশ সংকটে পড়লে এ মানুষগুলো রাতে একা কি করে বের হবে? পুরুষের চেয়ে নারীরাই বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে।”
এ বিষয়ে খুলনার পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক জানান, “পুলিশ কর্মকর্তারা নতুন করে যেন এ ধরনের হামলার শিকার না হন এ জন্য একটি সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।”
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস- ভারপ্রাপ্ত) এম এম শাকিলুজ্জামান জানান, “সমস্ত পুলিশের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা সচেতন রয়েছি।”








































