যশোর অফিস।।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সুবিধা বাড়াতে গত এক বছরে চালু হয়েছে নতুন রুট ও ট্রিপ। পরিবহন ব্যবস্থাপনায় নানা উদ্যোগের পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয়েও এসেছে সাফল্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তরের দাবি, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জ্বালানি খাতে প্রায় ৪০ লাখ টাকার বেশি সাশ্রয় হয়েছে।
পরিবহন দপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত এক বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় তিন হাজার আবাসিক শিক্ষার্থী এবং ৫০ জন শিক্ষক-কর্মকর্তা যুক্ত হলেও ২৯টি গাড়ি ও ২৩ জন চালক দিয়ে নিয়মিত পরিবহন সেবা চালু রাখা হয়েছে। এ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িগুলোর গড় মাইলেজ প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে জ্বালানি খাতে উল্লেখযোগ্য সাশ্রয়ের পাশাপাশি ইঞ্জিন অয়েল ও বিআরটিসি ভাড়া খাতেও ব্যয় কমেছে বলে জানিয়েছে দপ্তর।
শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সুবিধা বাড়াতে কর্মদিবসে শহর থেকে ক্যাম্পাসে ফেরার জন্য একাধিক ট্রিপ চালু রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবারের (২৩ সেপ্টেম্বর) মার্কেট ট্রিপে গাড়ির সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি বিকেল ও রাতে পৃথক সময়ে শহরে যাওয়া এবং ক্যাম্পাসে ফেরার সুযোগ রাখা হয়েছে। ক্লাস বন্ধ থাকলেও অফিস খোলা থাকলে ক্যাম্পাস-শহর রুটে নির্ধারিত সময়ে পরিবহন সেবা চালু রাখা হয়েছে।
এছাড়া, ঝিনাইদহ শহর থেকে ভেটেরিনারি ক্যাম্পাসে নতুন পরিবহন সেবা চালু করা হয়েছে। শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য গোধূলি ট্রিপ এবং মার্কেট ট্রিপের পরিধিও বাড়ানো হয়েছে। পরিবহন সংক্রান্ত তথ্য, পরামর্শ ও অভিযোগ জানানোর জন্য হটলাইন চালুর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব গাড়িতে ভেহিকেল ট্র্যাকিং সিস্টেম (ভিটিএস) এবং গ্যারেজ এলাকায় সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে।
বিশেষ পরিস্থিতিতেও পরিবহন সেবা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তর। বীরপ্রতীক তারামন বিবি হলে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত শতাধিক শিক্ষার্থীকে দ্রæত হাসপাতালে নেওয়া এবং চিকিৎসা শেষে ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনতে বিশেষ পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়। এ ছাড়া ভর্তি পরীক্ষা ও ওরিয়েন্টেশন, ঈদুল আজহায় ক্যাম্পাস থেকে যশোর রেলস্টেশন এবং রমজানে ইফতারের পর শিক্ষার্থীদের যাতায়াতেও বিশেষ পরিবহন সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
তবে, চালক সংকট এবং নতুন গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে পরিবহন সেবায় কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে জানিয়েছে দপ্তর। ভবিষ্যতে নতুন রুট চালু, পূর্ণাঙ্গ শাটল সেবা, শুক্রবার ও অন্যান্য ছুটির দিনে মার্কেট ট্রিপ চালু, শিক্ষার্থীদের ইন্ডাস্ট্রি ভিজিটে পরিবহন সুবিধা এবং সার্বক্ষণিক দুটি অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
এ বিষয়ে যবিপ্রবির পরিবহন পরিচালক ড. শিমুল ইসলাম বলেন, “যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (পরিবহন) হিসেবে দ্বিতীয় বছরের দায়িত্ব শেষ করলাম। পরিবহন দপ্তরে চালকের সংকট ও নতুন গাড়ি কেনায় সরকারি নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মকর্তা এবং নতুন চালু হওয়া দুটি হলের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত নির্বিঘœ রাখতে পরিবহন দপ্তর আপ্রাণ চেষ্টা করেছে।”
তিনি আরো বলেন, “কিছু সীমাবদ্ধতা থাকা সত্তে¡ও পরিবহন সেবার মান বৃদ্ধি, গুণগত পরিবর্তন এবং ব্যবস্থাপনাকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনার চেষ্টা করেছি। পরিবহনের সার্বিক পরিবর্তনে পরিবহন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পরিবহন পরিচালনা কমিটির সদস্য, সংশ্লিষ্ট দপ্তরপ্রধান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে সুচিন্তিত মতামত প্রদানকারীদেরও সাধুবাদ জানাই।”
শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মকর্তাদের যাতায়াত সহজ করার পাশাপাশি পরিবহন খাতে ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে যবিপ্রবি। বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ভবিষ্যতে সেবার পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তরের।











































