Home স্বাস্থ্য ধূমপান ছাড়লেই কি ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে?

ধূমপান ছাড়লেই কি ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে?

4

মিলি রহমান।।

ধূমপান করা ফুসফুসের জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর আর এতে ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরি হয়। কিন্তু অনেকের প্রশ্ন থাকে তবে কি ধূমপান ছেড়ে দিলেই ফুসফুসের ক্যান্সারের ভয় পুরোপুরি কেটে যায়? সহজ উত্তর হলো না।

তবে ভালো দিক হচ্ছে, ধূমপান বন্ধ করার পর থেকেই শরীর ধীরে ধীরে নিজেকে সারিয়ে তুলতে শুরু করে এবং সময়ের সঙ্গে ক্যান্সারের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন ডা. কুমার প্রভাশ, টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালের মেডিক্যাল অনকোলজির অধ্যাপক ও সলিড টিউমার ইউনিটের প্রধান এবং হোমি ভাবা ক্যান্সার ইনস্টিটিউট, মুজাফফরপুরের পরিচালক।

ধূমপান ছাড়ার পর যা হয়

বিশেষজ্ঞের মতে, ধূমপান বন্ধ করার উপকার পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয় না। পরিবর্তন শুরু হয় খুব দ্রুতই। ধূমপান ছাড়ার প্রায় ১২ ঘণ্টার মধ্যেই রক্তে কার্বন মনোক্সাইডের মাত্রা স্বাভাবিক পর্যায়ে নেমে আসতে পারে। এরপর কয়েক সপ্তাহ ও কয়েক মাসের মধ্যে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে উন্নত হতে শুরু করে। কমতে পারে কাশি ও শ্বাসকষ্টও।

ডা. প্রভাশের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কেউ ধূমপান ছেড়ে দেয়ার ১০ বছর পর ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকি ধূমপান চালিয়ে যাওয়া ব্যক্তির তুলনায় প্রায় ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ কমতে পারে।

অর্থাৎ, ধূমপান ছাড়ার সুফল শুধু তাৎক্ষণিক শারীরিক পরিবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় দীর্ঘমেয়াদেও এর বড় প্রভাব রয়েছে।

ধূমপান ছেড়ে দিলে ঝুঁকি অনেক কমে যায়, কিন্তু সাবেক ধূমপায়ীর ঝুঁকি সবসময় একজন কখনো ধূমপান না করা ব্যক্তির পর্যায়ে নেমে আসবে এমন নিশ্চয়তা নেই। ডা. প্রভাশ বলেন, ধূমপান ছাড়ার পরও সাবেক ধূমপায়ীদের ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকি কখনো ধূমপান না করা ব্যক্তিদের তুলনায় বেশি থাকতে পারে। তবে এই ঝুঁকি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয় এবং তা নির্ভর করে অতীতে কত বছর, কত পরিমাণে এবং কী ধরনের ধূমপান করা হয়েছে তার ওপর। সহজভাবে বললে, ধূমপান ছাড়লে অতীতের ক্ষতি পুরোপুরি মুছে যায় না, কিন্তু নতুন করে ক্ষতি হওয়া বন্ধ হয় এবং শরীর সুস্থ হওয়ার সুযোগ পায়।

যেসব ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে

ধূমপান ছাড়ার সুফল শুধু ফুসফুসের ক্যান্সারেই সীমাবদ্ধ নয়। বিশেষজ্ঞের মতে, ধূমপান বন্ধ করলে প্রায় ১২ ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে—

১. ফুসফুসের ক্যান্সারের
২. লিভারের ক্যান্সার
৩. অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার
৪. মূত্রথলির ক্যানসার
৫. কিডনির ক্যান্সার
৬. পাকস্থলীর ক্যান্সার
৭. কোলোরেক্টাল বা বৃহদান্ত্র ও মলাশয়ের ক্যান্সার
৮. ক্যান্সার ধরা পড়লে চিকিৎসা

ফুসফুসের ক্যান্সারের চিকিৎসাও আগের তুলনায় অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় হয়েছে। রোগের ধরন ও পর্যায়ের ওপর নির্ভর করে অস্ত্রোপচার, রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি কিংবা ইমিউনোথেরাপি এককভাবে অথবা একাধিক পদ্ধতির সমন্বয়ে ব্যবহার করা হতে পারে।

এ ছাড়া আধুনিক নেক্সট-জেনারেশন সিকোয়েন্সিং প্রযুক্তির মাধ্যমে টিউমারের জেনেটিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আরো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে নির্দিষ্ট রোগীর জন্য কোনো ধরনের চিকিৎসা বেশি উপযোগী হতে পারে, তা নির্ধারণে চিকিৎসকদের সহায়তা করছে উন্নত ডায়াগনস্টিক প্রযুক্তি।

ধূমপান বন্ধ করার পর থেকেই শরীরের ওপর এর ইতিবাচক প্রভাব শুরু হয় এবং সময়ের সঙ্গে অনেক স্বাস্থ্যঝুঁকি কমতে থাকে। তবে অতীতে দীর্ঘদিন ধূমপান করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি পুরোপুরি কখনো ধূমপান না করা মানুষের পর্যায়ে নাও নামতে পারে।

তাই ধূমপান বন্ধ করার পাশাপাশি ব্যক্তিগত ঝুঁকি অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া এবং প্রয়োজন হলে উপযুক্ত স্ক্রিনিং করানো গুরুত্বপূর্ণ।