Home আঞ্চলিক যশোরে মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষে বিপ্লব: কম খরচে বাম্পার ফলনে ঝুঁকছেন কৃষকেরা

যশোরে মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষে বিপ্লব: কম খরচে বাম্পার ফলনে ঝুঁকছেন কৃষকেরা

9

যশোর অফিস।।

শ্রাবণের বর্ষায় যখন চারদিকের ফসলের মাঠ তলিয়ে গিয়ে সবজির গোড়া পচে গাছ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়, তখন যশোরের মনিরামপুরে দেখা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্নচিত্র। আধুনিক ‘মালচিং’ পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রতিকূল আবহাওয়াতেও বিষমুক্ত ও সতেজ সবজির বাম্পার ফলন পাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকেরা। কম খরচে দ্বিগুণ লাভের মুখ দেখায় এলাকায় এই প্রযুক্তিতে সবজি চাষের জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উপজেলার রাজগঞ্জ এলাকার হায়াতপুর, মোবারকপুরসহ পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠজুড়ে শোভা পাচ্ছে বেগুন, করলা, খিরাই, পটল ও কাঁকরোলসহ হরেক রকমের সবজি।

হায়াতপুর গ্রামের কৃষক মুকুল হোসেন জানান, তিনি ৪৫ শতক জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে করলা চাষ করেছেন। ইতিমধ্যেই সব খরচ বাদ দিয়ে তাঁর ৮০ হাজার টাকা লাভ হয়েছে এবং চলতি মৌসুমে লক্ষাধিক টাকা লাভের আশা করছেন। তিনি বলেন, “শ্রাবণের এই সময় সাধারণত মাঠে পানি জমে গাছের গোড়া পচে মারা যায়। কিন্তু মালচিং প্রযুক্তিতে বেড পলিথিনে ঢাকা থাকায় পানি জমতে পারে না, আগাছাও জন্মায় না। কীটনাশক ও শ্রমিক খরচ কম লাগায় উৎপাদন খরচ অনেক কমে গেছে।”

একই গ্রামের মিজানুর রহমান টুকু প্রায় ছয় বছর আগে প্রথম এই পদ্ধতিতে আবাদ শুরু করেন। তিনি জানান, নবলোক পরিষদ নামের একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সহায়তায় তিনি আড়াই বিঘা জমিতে খিরাই ও বেগুন চাষ করে সাফল্য পান। শুরুতে বিষয়টি অনেকে ঝামেলা মনে করলেও এখন তাঁর সফলতা দেখে এলাকার অধিকাংশ কৃষকই মালচিং পদ্ধতি গ্রহণ করছেন।

পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) আর্থিক সহায়তায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘নবলোক পরিষদ’ মনিরামপুরের ১০ জন কৃষককে প্রশিক্ষণ ও বিনামূল্যে পলিথিন শিটসহ ১৫ হাজার টাকার উপকরণ সরবরাহ করেছে। নবলোক পরিষদের কৃষি কর্মকর্তা প্রিন্স হালদার জানান, আগামীতে অন্তত ৫০ জন কৃষককে এই টেকসই কৃষির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

মনিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার জানান, মালচিং একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি। এই পদ্ধতিতে জমিতে বিশেষ পলিথিন শিট ব্যবহার করায় মাটির আর্দ্রতা সংরক্ষিত থাকে, রোগবালাই কম হয় এবং আলো প্রতিফলিত হয়ে পোকা দূর হয়। এতে জমিতে প্রায় ২০ শতাংশ শ্রমিক ও ৩০ শতাংশ রাসায়নিক সার কম লাগে। পাশাপাশি আবহাওয়ার তারতম্যের ওপর ভিত্তি করে ফসলের উৎপাদন ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। কম খরচে অধিক লাভের সুযোগ থাকায় কৃষি বিভাগ থেকে সাধারণ কৃষকদের মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদে নিয়মিত উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।