সৈয়দ রানা কবীর
গেল ১৫ বছরে জমিকেনা, বালি ভরাট, সিটি কর্পোরেশন ও সড়ক বিভাগসহ বিভিন্ন কাজে ব্যাপক অনিয়ম করে কোটি কোটি টাকা বাগিয়ে নিয়েছেন খুলনার প্রভাবশালী ঠিকাদার তৌহিদুল ইসলাম আজাদ। এই সময়ে খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলে একচেটিয়া দাপট দেখিয়েছেন এই ঠিকাদার। খুলনার প্রভাবশালী শেখ বাড়ি ও সাবেক মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের প্রভাবে খুলনা ও ঢাকায় গড়ে তুলেছেন আলিশান বাড়ি-গাড়ি ও কয়েক একর জমি।
বর্তমানে তাঁর সম্পদ অর্জনের বিষয় নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও অন্য একটি সংস্থায় দুটি ঘটনার তদন্ত করছে।
অনুসন্ধানে জানাযায়, তৌহিদুল ইসলাম আজাদ মূলত দি আজাদ ইঞ্জিনিয়ার্স প্রতিষ্ঠানের খুলনা অঞ্চলের পরিচিত। প্রতিষ্ঠানটি নগরীর ৮৯, রেলওয়ে এপ্রোস রোডে (স্টেশন রোড) প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা। তিনি খুলনার একটি বেসরকারি বিশব্বিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য। সাবেক মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের আশীর্বাদে খুলনা ক্লাবের সদস্য। তিনি গল্লামারীর আলোচিত যুবলীগ নেতা হাফিজুর রহমান হাফিজের মাধ্যমে খুলনার বেসরকারি নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে জমি ক্রয়ে ব্যাপক অনিয়ম করেন। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা এখনো সেই তদন্ত আর আলোর মুখ দেখেনি।
অভিযোগ রয়েছে, সুচতুর আজাদ ওই কমিটির অনেককে ম্যানেজ করে নিয়েছেন। যার কারণে তদন্ত আর আলোর মুখ দেখেনি।
এই ঠিকাদার নগরীর সোনাডাঙ্গায় প্রতিষ্ঠা করেছেন খুলনা হেলথ কেয়ার হসপিটাল প্রাইভেট লিমিটেড নামের একটি বেসরকারি হাসপাতাল গড়েছেন। যেখানে বিনিয়োগ হয়েছে অবৈধ আদায়ের অর্থ।
ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে খুলনার প্রভাবশালীদের প্রভাবে নিজ ক্ষমতার দাপটে সিংহভাগ কাজ বাগিয়ে নিতেন বলে বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি ছিলেন আজাদ রোড’স এণ্ড হাইওয়ের একজন প্রভাবশালী ঠিকাদারও। শেখ বাড়ির ও পলাতক সাবেক মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের আশীর্বাদে ও প্রভাব খটিয়ে কোটি কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন। আজাদ বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার অপকর্ম ধরা পড়ার পর সেখান থেকে তিনি সরে আসেন। এর আগে তিনি রূপসা ঘাটে ফেরি ও নৌকা পারাপারের টাকা তুলতেন। কয়েক কোটি টাকা ব্যাংক লোন নিয়ে তা আত্মসাত করেছেন। খুনি এরশাদ শিকদারের পতন ও মৃত্যুর পরে আাজাদ খুলনা ৪ ও ৫ নম্বর ঘাটের একক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। তাঁর বিরুদ্ধে খুলনা ঘাটে কার্গো বোঝাই সিমেন্ট লুটেরও অভিযোগ রয়েছে। পরে সেই অভিযোগ ও তিনি প্রভাব খাটিয়ে কতিপয় আইনশৃংখলা বাহিনীর কর্মকর্তার মাধ্যমে ধামাচাপা দেন।
নির্ভরযোগ্য কয়েকটি সুত্রের অভিযোগ জানা গেছে, তৌহিদুল ইসলাম আজাদ ঢাকার উত্তরায় ছয়তলা বিশিষ্ট আলিশান বাড়ির মালিক। আজাদের ঢাকা অফিস ‘আলহামদুলিল্লাহ’, ফ্লাট নং : এ-১, বাড়ী নং : ১৯, রোড নং : ৬/বি, সেক্টর : ১২, উত্তরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা। এছাড়াও তার রয়েছে বসুন্ধরা ও ধানমন্ডি এলাকায় আলিশান ফ্লাট ও বাড়ি। খুলনার দারোগা পাড়ায় রয়েছে বলিশান বাড়ি।
সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আজাদ ঢাকায় কিছুদিন গাঁ ঢাকা দিয়ে থাকেন। বর্তমানে আজাদ বহাল তবিয়তে খুলনায় অবস্থান করলে ও রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।
সুত্র জানায়, কতিপয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ম্যানেজ করে তিনি নির্বিঘ্নে চলাচল করছেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ বছরের শাসনামলে তিনি কেসিসির পলাতক মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন। সেখানে টেন্ডারের মাধ্যমে সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন এলাকার রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণের নামে কোটি কোটি টাকা বাগিয়ে নিয়েছেন। তার মালিকানাধীন দি আজাদ ইঞ্জিনিয়ার্স বর্তমানে কালো তালিকায়ভূক্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে তৌহিদুল ইসলাম আজাদের সাথে তার মুঠোফোনে আলাপ করা হয়। তিনি বলেন, তাঁর বিপক্ষে কে বা কারা কুৎসা রটাচ্ছে। তিনি কারো প্রভাবে এই সম্পদের মালিক হননি। তার বৈধ আয়ে এই সম্পদ অর্জন করেছেন।
তৌহিদুল ইসলাম আজাদ বলেন, সকল সম্পত্তিই বৈধতা রয়েছে। তিনি ইতিপূর্বে খুলনায় চার বার শ্রেষ্ঠ করদাতা হন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গুলো সত্য নয়। তবে দুদকে ও অন্য একটি সংস্থায় দুটি ঘটনার তদন্ত চলছে বলে তিনি স্বীকার করেন।











































