আইনশৃঙ্খলায় সন্তুষ্ট হতে পারছি না : মির্জা ফখরুল

5


খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।

নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক নেতাদের হত্যার ঘটনায় সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়াও বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে

সন্তুষ্ট হতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।

গতকাল শুক্রবার সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়ি এলাকার

নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বিএনপি মহাসচিব এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, গোটা দেশের মানুষ অপেক্ষা করছে নির্বাচনের জন্যে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে খুব একটা সন্তুষ্ট হতে পারছি না। কারণ যে হারে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে খুন করা হচ্ছে; বিশেষ করে আমাদের দলের বেশ কয়েকজন নেতাকে হত্যা করা হয়েছে, খুন করা হয়েছে; আমরা এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছি, ক্ষোভ জানিয়েছি। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক নেতাদের খুনের ঘটনায় সরকারের তরফ থেকে সে ধরনের একটা কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। আমরা আশা করব সরকার এ ব্যাপারে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন। সেই সঙ্গে এসব ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে ব্যাপারে তারা আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।

উত্তরবঙ্গে তারেক রহমানের সফর সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, উত্তরবঙ্গে তারেক রহমান ব্যক্তিগত সফর করছেন। তিনি আসছেন নিজের দেশ বগুড়াতে। তার পর যাবেন রংপুরে, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। সেখান থেকে তিনি দিনাজপুরে যাবেন তার নানির কবর জিয়ারত করতে। সেখানে থেকে তিনি ঠাকুরগাঁওয়ে আসবেন। কারণ আপনারা জানেন এখানে কয়েকজন শহীদ আছেন, সেসব শহীদের কবর জিয়ারত করবেন এবং পরে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় গণদোয়া মাহফিলে তারেক জিয়া অংশ নেবেন। এর পর তিনি পঞ্চগড়ে যাবেন, পঞ্চগড় থেকে তিনি পর্যায়ক্রমে কয়েকটি জেলা ঘুরে ঢাকায় ফিরবেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এটাকে বলা যেতে পরে তার একটি ব্যক্তিগত শুভেচ্ছা সফর। একই সঙ্গে তার যে দায়িত্ব রয়েছেÑ গণ-অভ্যুত্থানে যে সমস্ত শহীদ হয়েছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর, সেটাই তিনি জানাবেন। তিনি বলেন, অতীতে দেখেছেন, প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমান- অবহেলিত অঞ্চলগুলোকে ত্বরান্বিত করার জন্য, শিল্পায়িত করার জন্য রাজশাহী ডিভিশনকে অথরিটি করেছিলেন বা বোর্ড করেছিলেন। তার ফলে অনেকগুলো শিল্প স্থাপিত হয়েছিল এবং উন্নয়নের কাজ অনেকদূর এগিয়ে গিয়েছিল। সেই দৃষ্টিভঙ্গিতে নিঃসন্দেহে আমাদের তারেক রহমান সাহেব সেভাবেই চিন্তা করবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভোটের প্রভাব জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরবে নাÑ এমন মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, আরেকটি বিষয় যেটা আমি জোর দিয়ে বলতে চাইÑ বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন এটা আপনার জাতীয় নির্বাচনে কখনো বা কোনোদিনই প্রভাব ফেলেনি। আমরা আশা করি সেভাবে এবারও কোনো প্রভাব ফেলবে না। তিনি বলেন, আমাদের বিশেষ করে অনেক অন্যান্য ছাত্র সংগঠনÑ তারা বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কাজ করার সুযোগ পায়নি। বিশেষ করে আমাদের ছাত্রদলকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি, তাদেরকে কুক্ষিগত করে রাখা হয়েছিল। যার ফলে সেখানে এই ছাত্র সংগঠনগুলো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেনি।

সংস্কার প্রশ্নে গণভোট সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, সেই সংস্কারগুলো আমরাই আপনার বহু আগে ২০১৬ সালে এবং ২০২৩ সালে ৩১ দফার মাধ্যমে আমরা জাতির সামনে প্রস্তাব তুলে ধরেছি। সুতরাং সংস্কার তো একটা চলমান প্রক্রিয়া সেটা থাকবে, সেখানে না বলার কোনো কারণ আছে সেটা আমার মনে হয় না।

নিরাপত্তার জন্য বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, যেহেতু কয়েকজনের ওপর আক্রমণ হয়েছে, খুন হয়েছে; সে কারণে হয়তোবা আমাদের বা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতা সিকিউরিটির জন্য বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরছেন বা নিতে পারেন। আমি বিএনপির সেক্রেটারি জেনারেল কিন্তু আমার কোনো ভ্যাস্ট নেই বা বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট নেই।

এ সময় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।