Home আঞ্চলিক সাগর পাড়ের কান্না, এখনো নিখোঁজ ১৩৩ জেলেসহ ৭টি ট্রলার

সাগর পাড়ের কান্না, এখনো নিখোঁজ ১৩৩ জেলেসহ ৭টি ট্রলার

32

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি।।

কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়া ২৭টি ট্রলারের ৯ জেলে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া হদিস মেলেনি ৭টি মাছধরা ট্রলারসহ ১২৪ জেলের। নিখোঁজ এসব জেলে পরিবারে চলছে শোকের মাতম। তবে গত দুইদিনে উদ্ধার করা হয়েছে বিপদগ্রস্ত ৩ শতাধিক জেলেকে। মৎস্য মালিক সমিতির উদ্ধারকারী ট্রলার ও কোস্ট গার্ডের সদস্যরা পৃথক অভিযান চালিয়ে সুন্দর বন ও সাগরের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ভাসমান অবস্থায় এসব জেলেদের উদ্ধার করেন। বিষয়টি সোমবার সকালে নিশ্চিত করেছেন আলীপুর-কুয়াকাটা ও মহিপুর মৎস্য আড়ৎ মালিক সমিতি।

এদিকে নিখোঁজ জেলে পরিবারের সান্ত্বনা দিতে রোববার রাতে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন পটুয়াখালী-৪ আসনের এমপি অধ্যক্ষ মহিব্বুর রহমান মহিব। এ সময় মহিপুর থানার ওসি আবুল খায়ের, কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি বারেক মোল্লা ও কুয়াকাটা-আলীপুর মৎস্য আড়ৎ মালিক সমিতির সভাপতি আনসার উদ্দিন মোল্লা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনের সময় জেলেদের দাবির প্রেক্ষিতে এমপি মহিব দুর্যোগ সহনীয় একটি উদ্ধারকারী নৌ-যানের ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছে।
কুয়াকাটা-আলীপুর মৎস্য আড়ৎ মালিক সমিতির সভাপতি ও লতাচাপলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আনসার উদ্দিন মোল্লা বলেন, আমাদের আলীপুরের এখনো ৬ টি ট্রলারসহ ১১২ জেলের হদিস মিলছে না। এছাড়া সাগরে নিমজ্জিত হওয়া ১২টি ট্রলারের ৯ জেলে এখনো নিখোঁজ রয়েছে। প্রতি বছরই ঘূর্ণিঝড় ও সাগরে নিম্নচাপ সৃষ্টি হলে ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটে এবং জেলে নিখোঁজ হয়।

মূলত: এখানে কোনো উদ্ধারকারী নৌ-যান নেই। তবে রোববার রাতে পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মহিব্বুর রহমান মহিব এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং এখানে দুর্যোগ সহনশীল একটি উদ্ধারকারী নৌ-যান দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। মহিপুর আড়ৎ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ রাজা বলেন, আমাদের এখানে শুধুমাত্র ১২ জেলেসহ এফবি মা-বাবার দোয়া নামের একটি ট্রলার নিখোঁজ রয়েছে। তবে ডুবে যাওয়া ১৫ ট্রলারের সকল জেলের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বেশকিছু জেলে ভারতে উদ্ধার হয়েছে। আশা করছি এসব জেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার সহযোগিতার হাত বাড়াবে। পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মহিব্বুর রহমান মহিব বলেন, নিখোঁজ জেলে পরিবারে আহাজারি চলছে। আমি সহ নেতাকর্মীরা মহিপুর ও আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র এলাকা পরিদর্শন করেছি এবং জেলেদের খোঁজ-খবর নিয়েছি। তারা এখানে একটি দুর্যোগ সহনশীল উদ্ধারকারী নৌ-যানের দাবি জানিয়েছেন। আমি বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করবো এবং জাতীয় সংসদে বিষয়টি উপস্থাপন করবো।