স্পোর্টস ডেস্ক
চ্যাম্পিয়নস লিগে দুর্দান্ত জয় দিয়ে অভিযান শুরু করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। মঙ্গলবার রাতে পোর্তোর মাঠে ২-০ গোলে জিতেছে এনজো মারেস্কার দল। দুই গোলই করেছেন আর্লিং হলান্ড।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে মার্ক গেহি ও পোর্তোর গ্যাব্রিয়েল ভেইগার সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তাকর্মীদেরও হস্তক্ষেপ করতে হয়। খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা সাজঘরের দিকে যাওয়ার সময়ও উত্তেজনা অব্যাহত ছিল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোল করে সিটিকে এগিয়ে দেন হলান্ড। ৪৭তম মিনিটে রায়ান শেরকির দারুণ প্রচেষ্টায় বল ডান দিক থেকে মাঠে থাকে। এরপর তিনি এনজো ফের্নান্দেজকে বল বাড়িয়ে দেন। ফের্নান্দেজের উঁচু করে দেওয়া বলে মাথা ছুঁইয়ে জাল খুঁজে নেন হলান্ড। পোস্ট ঘেঁষে বল জালে যাওয়ায় পোর্তোর গোলরক্ষক দিয়োগো কোস্তার কিছুই করার ছিল না।
গোল হজমের পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় পোর্তো। একের পর এক আক্রমণে সিটির রক্ষণে চাপ তৈরি করে স্বাগতিকেরা। পেপের হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পরে আলবের্তো কোস্তার হেডও গোলের খুব কাছ দিয়ে চলে যায়। আলান ভারেলার জোরালো শটও অল্পের জন্য বাইরে চলে গেলে সমতায় ফেরার সুযোগ নষ্ট হয় পোর্তোর।
এর আগে প্রথমার্ধে বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিল সিটি। ১৫তম মিনিটে ফিল ফোডেন ও অঁতোয়ান সেমেনিয়োর সমন্বয়ে আক্রমণ তৈরি হয়। ফোডেনের বাড়ানো বলে হালান্ডের শক্তিশালী হেড দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন পোর্তো গোলরক্ষক দিয়োগো কোস্তা।
এরপর ফোডেনের নিচু শটও আটকে দেন তিনি। হলান্ডের ভলি এবং রায়ান শেরকির ফিরতি প্রচেষ্টাও পরপর ঠেকিয়ে দেন পোর্তোর গোলরক্ষক।
প্রথমার্ধ যত গড়ায়, ম্যাচ ততই শারীরিক লড়াইয়ে রূপ নেয়। জসকো গাভারদিওলকে হলুদ কার্ড দেখানো হয় উইলিয়াম গোমেসের সঙ্গে সংঘর্ষের পর। এরপর গেহির সঙ্গে ভেইগার সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়। মাথার ওপরের বলে লড়াই করতে গিয়ে গেহির কনুই ভেইগার মুখে লাগে। রেফারি সিটির খেলোয়াড়কে কার্ড না দেখালেও পোর্তোর খেলোয়াড়েরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিরতির বাঁশি বাজার পরও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। দুই দলের খেলোয়াড়েরা সাজঘরে যাওয়ার সময় ফের সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হলে নিরাপত্তাকর্মীরা এগিয়ে আসেন।
দ্বিতীয়ার্ধে পোর্তো ম্যাচে ফেরার মরিয়া চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত সিটির রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। বরং যোগ করা সময়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করে পোর্তোর সব আশা শেষ করে দেন হলান্ড। রায়ান আইত-নুরির বাড়ানো বল পেয়ে কাছ থেকে জালে পাঠান নরওয়ের এই তারকা।
ম্যাচের শেষ দিকেও উত্তেজনা ছড়ায়। হলান্ডকে ফাউল করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তোলেন পাবলো রোসারিও। এ ঘটনায় পোর্তোর কোচ ফ্রান্সেসকো ফারিওলিকেও হলুদ কার্ড দেখানো হয়।
শেষ পর্যন্ত কঠিন পরিস্থিতি সামলে ২-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ম্যানচেস্টার সিটি।









































