Home Lead অবরুদ্ধ সময়েও রাজপথের হার না মানা সৈনিক ছিল মহিলা দল

অবরুদ্ধ সময়েও রাজপথের হার না মানা সৈনিক ছিল মহিলা দল

0

মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বক্তারা

খবর বিজ্ঞপ্তি।।
খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি ও কেডিএর চেয়ারম্যান এড. শফিকুল আলম মনা বলেছেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ লড়াইয়ে আমাদের নারী সমাজের ভূমিকা চিরস্মরণীয়। স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিস্ট শক্তির সমস্ত ভয়ভীতি আর রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে মহিলা দলের নেত্রীকর্মীরা যেভাবে সাহসিকতার সাথে রাজপথে বুক পেতে দিয়েছিলেন, তা আমাদের মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে চিরদিন স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) খুলনা প্রেসক্লাবের ব্যাংকুয়েট হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে খুলনা মহানগর মহিলা দল আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে গভীর শ্রদ্ধার সাথে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৯৭৮ সালের এই দিনে নারীর রাজনৈতিক ও সামাজিক মুক্তি ও অধিকার নিশ্চিত করার দূরদর্শী ভাবনা থেকেই তিনি মহিলা দল গঠন করেছিলেন। পাশাপাশি তিনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ আপসহীন সংগ্রাম এবং দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের চরম ত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। মনা আরও বলেন, বিএনপির মূল লক্ষ্য একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক এবং সত্যিকার গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। যে রাষ্ট্রে নারী-পুরুষের কোনো ভেদাভেদ বা বৈষম্য থাকবে না, থাকবে না কোনো নিপীড়ন-যেখানে প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে মাথা উঁচু করে বাঁচবে। শহীদ জিয়ার সেই আদর্শকে বুকে ধারণ করে মহিলা দলের প্রতিটি সৈনিককে রাজপথে আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।


আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিসিবির পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, সমাজ, রাষ্ট্র ও রাজনীতির প্রতিটি স্তরে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও মর্যাদা নিশ্চিত করার সুদূরপ্রসারী স্বপ্ন নিয়েই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতীয়তাবাদী মহিলা দল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই ঐতিহাসিক দর্শন ও চেতনাকে ধারণ করেই মহিলা দল আজ অগ্রগতির অবিরাম পথে এগিয়ে চলেছে। কারণ, নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়ন ছাড়া কোনো সভ্যতাই পূর্ণতা লাভ করতে পারে না। নারীদের শিক্ষা ও অগ্রযাত্রায় দলের ঐতিহাসিক অবদানের কথা স্মরণ করে তুহিন বলেন, অতীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারীদের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেছিলেন। পরবর্তীতে আমাদের নেতা, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই সুযোগকে আরও অনেকদূর প্রসারিত করে নারীদের উচ্চশিক্ষা বিএ ও বিএ অনার্স পর্যন্ত অবৈতনিক ঘোষণা করেছেন। এসব জনকল্যাণমুখী ও যুগান্তকারী পদক্ষেপের মাধ্যমেই মূলত সমাজে নারীদের শেকড় থেকে প্রকৃত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা হচ্ছে। সবাইকে অতীতের সকল ভেদাভেদ ও দূরত্ব ভুলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।


মহানগর মহিলা দলের আহবায়ক সৈয়দা নার্গিস আলী সভাপতিত্বে ও এড. হালিমা আক্তার খানম এর পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন, বেগম রেহানা ঈসা, চৌধুরী হাসানুর রশিদ মিরাজ, এড. তসলিমা খাতুন ছন্দা, ইঞ্জি. নুরুল ইসলাম বাচ্চু, এম এ জলিল, ডা. হুমায়রা মুসলিমা বাবলি, এড. জাহানারা পারভীন, নিঘাত সিমা, নাসরিন শ্রাবণী, শাহানা সারোয়ার, আনজিরা খাতুন, সালমা বেগম, হাসনা হেনা, কাওছারী জাহান মঞ্জু, পাপিয়া রহমান পারুল প্রমূখ। আলোচনা সভার আগে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে দিবসের কার্যক্রম শুরু হয় এবং আলোচনা শেষে নগরীতে বর্নাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।