Home আঞ্চলিক ভৈরব নদে ট্রলার ডুবির ৭ দিন পর কাজীবাছায় ভাসল রাকিবের মরদেহ, পরিবারে...

ভৈরব নদে ট্রলার ডুবির ৭ দিন পর কাজীবাছায় ভাসল রাকিবের মরদেহ, পরিবারে মাতম

17

স্টাফ রিপোর্টার।।

খুলনার ভৈরব নদের জেলখানাঘাট এলাকায় ফেরি ও ট্রলারের ভয়াবহ সংঘর্ষের পর নিখোঁজ হওয়া সেই অদম্য তরুণ রাকিব খানের (২৭) নিথর দেহ অবশেষে উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের দীর্ঘ সাত দিন পর বটিয়াঘাটার কাজীবাছা নদী থেকে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাঁর গলিত মরদেহ উদ্ধার করে রূপসা নৌ পুলিশ।

নিহত রাকিব খান রূপসা উপজেলার আইচগাতী এলাকার সেনের বাজারের মৃত বাকের হোসেন ও রোকসানা বেগম দম্পতির একমাত্র ছেলে। স্বজনদের মুখে হাসি ফোটাতে ও সংসার সামলাতে দিনরাত পরিশ্রম করা রাকিব খুলনা শহরের বায়তীপাড়া আব্বাস উদ্দিন একাডেমিতে নিয়মিত নাচ শিখতেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ১ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ১০টার দিকে ভৈরব নদের জেলখানাঘাট এলাকায় ফেরি ও যাত্রীবাহী ট্রলারের তীব্র সংঘর্ষ ঘটে। দুর্ঘটনার ঠিক কিছুক্ষণ আগে (রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে) ঘাটের দিকে হেঁটে যেতে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় রাকিবকে। এরপর থেকেই তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায় এবং তিনি নিখোঁজ হন। ২ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে খুলনা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তাঁর মামা কামরুল হাসান।

দীর্ঘ এক সপ্তাহ ধরে মা রোকসানা বেগম ও স্বজনরা ট্রলার ভাড়া করে ভৈরব ও কাজীবাছা নদীর দু’পাড়ে তন্ন তন্ন করে সন্ধান চালিয়েও তাঁর কোনো হদিস পাননি। একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে মা অভিযোগ করেছিলেন, নৌযান চলাচলে অব্যবস্থাপনা ও চালকের গাফিলতিই কেড়েনিল তাঁর সন্তানের প্রাণ।

অবশেষে মঙ্গলবার রাতে বটিয়াঘাটার গঙ্গারামপুর ইউনিয়নের কাতিয়ানাংলা বাজারসংলগ্ন কাজীবাছা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীরা নৌ পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গলিত অবয়বহীন মরদেহটি ডাঙায় তোলে। খবর পেয়ে স্বজনরা সেখানে গিয়ে পরনের পোশাক ও চিহ্ন দেখে রাকিবকে শনাক্ত করেন। এক নজর দেখার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতের মা ও স্বজনরা।

রূপসা নৌ পুলিশ জানায়, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।