স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনা বিভাগজুড়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি। দিন দিন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ও মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হতে থাকায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন রেকর্ড ২৪২ জন ডেঙ্গু রোগী। এ নিয়ে চলতি বছর বিভাগে মোট আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে সাত হাজার ছাড়িয়ে পৌঁছেছে ৭ হাজার ৬৬০ জনে, আর প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫ জনে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন সরকারি এই উদ্বেজনক পরিসংখ্যান নিশ্চিত করেছেন।
হাসপাতালে উপচে পড়া ভিড়, খুলনায় চাপ সবচেয়ে বেশি
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের তথ্যমতে, ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া ২৪২ জন রোগীর মধ্যে সরকারি হাসপাতালেই ঠাঁই নিয়েছেন ২০৬ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৬ জন। মারা যাওয়া ৩ জনের মধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ২ জন এবং বাগেরহাটে ১ জন চিকিৎসাধীন ছিলেন।
বর্তমানে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে একযোগে ভর্তি আছেন ৮৭৮ জন ডেঙ্গু রোগী। জেলাওয়ারী চিত্রে সংক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে খুলনা জেলা। বর্তমানে এ জেলায় সর্বোচ্চ ৩৮০ জন রোগী চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে এককভাবে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই লড়ছেন ১৮০ জন। এ ছাড়া বাগেরহাটে ১০৮ জন ও যশোরে ৯৮ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।
মৃত্যুর শীর্ষে খুমেক হাসপাতাল
বছরের প্রথম দিন থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৭,৬৬০ জনের মধ্যে ৬,৫৭৮ জন সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরলেও ১৭৯ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো (রেফার) হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, বিভাগে এ বছর ডেঙ্গুতে মোট ২৫ জন মৃত্যুর মধ্যে রেকর্ড ২০ জনই মারা গেছেন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এ ছাড়া খুলনা জেলার অন্যান্য হাসপাতালে ২ জন, বাগেরহাটে ২ জন এবং যশোরে ১ জনের মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে।
কার্যকর পদক্ষেপের অভাব ও অসচেতনতায় আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি
নগরবাসী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশনের মশক নিধন কার্যক্রমে শিথিলতা এবং সার্বিক অসচেতনতার সুযোগেই এডিস মশার এই দ্রুত বংশবৃদ্ধি ঘটছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) ও স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, এডিস মশার কামড় প্রতিরোধে বাসাবাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা ও জমে থাকা পানি অপসারণের বিকল্প নেই। অন্যদিকে চিকিৎসকরা সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছেন, জ্বর বা ডেঙ্গুর কোনো লক্ষণ দেখা দিলে ঘরে বসে না থেকে অবিলম্বে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে রক্ত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা জরুরি।











































