খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।
সম্প্রতি শাখা শিবিরের এক নেতাকে ছাত্রদল নেতার থাপ্পড় দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা, ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় শিবিরের নেতাকর্মীরা ছাত্রদল নেতার হলের কক্ষের জানালা এবং প্রক্টরের গাড়ির গ্লাস ভাঙচুর করেন। বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে ছাত্রদল কর্মীর কক্ষের সামনে কয়েকজন শিবিরকর্মীকে উত্তেজিত অবস্থায় জানালা ভাঙচুর করতে দেখা যায়। পরে কয়েকজনকে গাড়ির দিকে ইট, বোতল ও জুতা নিক্ষেপ করতেও দেখা যায়।
গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) শহিদ জিয়াউর রহমান হলে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য আলীনূর শিবিরের হল শাখার সেক্রেটারি কাজী জুহায়েরকে থাপ্পড় দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শিবিরকর্মীরা হলে এলে আলীনূর হলের ২১৭ নম্বর কক্ষে আশ্রয় নেন। পরে শিবিরের কয়েকজন নেতাকর্মী উত্তেজিত হয়ে ওই কক্ষের সামনে গিয়ে জানালার কাঁচ ভাঙচুর করেন।
এ সময় ধারণ করা বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কক্ষের সামনে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মারুফ, অর্থনীতি বিভাগের নাইমুর রহমান, আইন বিভাগের সাকিব, আরবি বিভাগের বাকি-বিল্লাহ ও আল-হাদিস বিভাগের শাকিলসহ আরো কয়েকজন উত্তেজিত অবস্থায় কাঠ ও টেবিল দিয়ে ধাক্কা এবং লাথি মেরে দরজা ভাঙার চেষ্টা করছেন। এ সময় কক্ষের ভেতরে আটকে থাকা শিক্ষার্থীদের ধারণ করা ভিডিওতে জানালার কাঁচ ভাঙতে দেখা যায়। তবে, ওই অংশের ভাঙচুরকারীকে শনাক্ত করা যায়নি।
ওই সময় কক্ষে আটকে থাকা ছাত্রদলকর্মী তাহসিন জিম বলেন, “আলীনূর তার কক্ষে আসার পর শিবিরের ১০-১৫ জন তার রুমের দিকে আসেন। অতর্কিত হামলা দেখে তিনি ভয়ে দরজা লাগিয়ে দেন। এরপর তারা দরজায় লাথি মারতে থাকেন। পরে তারা রুমের জানালার কাঁচ ভাঙেন। ব্যালকনিতে হোসনে মোবারক নামে এক ছেলে ইট মারেন। এতে একটি ইট তার হাতে লেগে ক্ষতের সৃষ্টি হয়।”
এদিকে, পুলিশি সহায়তায় প্রক্টরিয়াল বডি আলীনূরকে কক্ষ থেকে বের করে গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার সময় গাড়ির গ্লাস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সংগৃহীত ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি হলের ফটক পেরিয়ে কিছুদূর এগিয়ে গেলে ডান দিক থেকে শিবির কর্মী নাইম ইসলাম গাড়িতে ইট এবং শাকিল আহমেদ বোতল ছুড়ে মারেন। এর পরপরই নীল টি-শার্ট পরা আরো একজন প্রক্টরের গাড়ি লক্ষ্য করে পেছন থেকে ইট মারলেও তা গাড়ি পর্যন্ত পৌঁছায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শিবিরকর্মী নাইম ইসলাম বলেন, “ওখানে হুড়োহুড়ি চলছিল। অনেকেই ইট মারতে পারে। তবে আমি কোনো কাঁচ ভাঙিনি।”
আরেক অভিযুক্ত শিবিরকর্মী শাকিল আহমেদ বলেন, “আমি প্রক্টরের গাড়ির কাঁচ ভাঙার সঙ্গে জড়িত নই। আমি গাড়ির আশপাশেই ছিলাম না।”
শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম বলেন, “আমি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিবকে নিয়ে পরিস্থিতি সামালের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছিলাম। এসব ভাঙচুর কে বা কারা করেছে তা আমার কনসার্নে ছিলো না।”
প্রক্টর অফিসের কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিন বলেন, “ওই গাড়িতে উঠার সময়ই আমার ফোনের ডিসপ্লে ভেঙ্গে যায়। এছাড়া, সম্ভবত সাদ্দাম হোসেন হলের দিক থেকে কেউ ইট মারলে গাড়ির গ্লাস ভেঙে যায়। ভেতরে থাকা লোকজন ইটের আঘাতে আহত হতে পারত, তবে ইটটি কারো গায়ে লাগেনি।”
প্রক্টর অধ্যাপক শাহীনুজ্জামান বলেন, “গেটের একটু সামনে পৌঁছাতেই ছেলেপেলে ওর (অলীনূর) দিকে ধেয়ে আসে। দ্রুত ওকে গাড়িতে ঢুকাই। পরে কয়েকটি ঢিল গাড়িতে এসে লাগে এবং কাঁচ ভেঙে যায়। কারা জড়িত ছিলো সেটি তদন্ত কমিটি দেখবে।”
সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনায় প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মোহাম্মদ সেলিম বলেন, “আমাদের তদন্ত চলমান। যে সকল ঘটনা ঘটেছে সবকিছুই আমরা নোট ডাউন করছি।”











































