Home জাতীয় কিশোরী ধর্ষণ-হত্যা মামলার আসামি বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা

কিশোরী ধর্ষণ-হত্যা মামলার আসামি বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা

0

খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।

পাবনার আটঘরিয়ায় আলোচিত কিশোরী তমা খাতুন ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি বিএনপি নেতা আদম আলীকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

আজ সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের চণ্ডীপাশা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। থানার ওসি নাজমুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত আদম আলী ষাটগাছা গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি একদন্ত ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এবং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য।

ওসি নাজমুল হক জানান, বিকেলে একদন্ত হাট থেকে বাজার নিয়ে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন আদম আলী। চণ্ডীপাশা এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁর মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। প্রথমে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে আদম আলীর মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের লাশ উদ্ধার ও সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

ওসি আরও বলেন, কে বা কারা কি কারণে আদম আলীকে হত্যা করেছে তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কিশোরী তমা হত্যা মামলার সঙ্গে এই হত্যার কোনো যোগসূত্র আছে কি না সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর একদন্ত ইউনিয়নের ষাটগাছা গ্রামের হাচেন আলীর বাঁশঝাড় থেকে কিশোরী তমা খাতুনের (১৬) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় লাশটি পড়ে ছিল। তমাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় করা মামলায় আদম আলীকে প্রধান আসামি করা হয়। এরপর থেকে তিনি আলোচনায় ছিলেন।

মামলায় পলাতক থাকা অবস্থায় ২৮ ডিসেম্বর র‍্যাব যৌথ অভিযান চালিয়ে টাঙ্গাইল থেকে আদম আলীকে গ্রেপ্তার করে। পরে তিনি কিশোরী তমাকে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছিলেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আদালতে জমা দেওয়া চূড়ান্ত চার্জশিটে আদম আলীকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে রাখা হয়।

তবে এক বছর কারাবাসের পর জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফেরেন আদম আলী। স্থানীয়দের অভিযোগ, জামিনে বের হয়েই মামলা তুলে নিতে বাদী ও সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করেন তিনি। প্রাণনাশের হুমকিতে ভিটেমাটি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতে বাধ্য হন মামলার বাদী ও নিহতের বাবা নায়েব আলী।