Home Lead ডুমুরিয়ায় সরকারি জমি দখল ও লেক ভরাট করে রাস্তা: ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী, উচ্ছেদের...

ডুমুরিয়ায় সরকারি জমি দখল ও লেক ভরাট করে রাস্তা: ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী, উচ্ছেদের আশ্বাস ইউএনওর

8


ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি।।


খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদের সরকারি জমি দখল এবং সরকারি লেক ভরাট করে ব্যক্তিগত রাস্তা নির্মাণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে দুই স্থানীয় যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত খান আছাবুর রহমান ও শফিকুল ইসলাম আনসার-ভিডিপি অফিস সংলগ্ন সরকারি লেকে বাঁধ দিয়ে যাতায়াতের পথ তৈরি করায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই উপজেলা পরিষদ চত্বরসহ পার্শ্ববর্তী সরকারি আবাসিক এলাকায় সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র জলাবদ্ধতা। সরকারি নাকের ডগায় এমন বেপরোয়া বেদখলের ঘটনায় স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।


দখল ও লেক বিভাজনের চিত্র: অনুসন্ধানে জানা যায়, খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক সংলগ্ন ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের পূর্ব পাশে আনসার-ভিডিপি, শিল্পকলা একাডেমি, নির্বাচন অফিস, মাধ্যমিক শিক্ষা ও মৎস্য অফিসের অবস্থান। এসব সরকারি দপ্তরের ঠিক পেছনে উপজেলা পরিষদের প্রায় ১০ শতাংশ এবং সরকারি লেকের প্রায় ৫ শতাংশ জমি দখল করে অতি সম্প্রতি অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলেছেন আছাবুর ও শফিকুল। এরপর সেই অবৈধ স্থাপনায় অনায়াসে যাতায়াতের জন্য তারা সড়ক ও জনপথ (সওজ) এবং উপজেলা পরিষদের যৌথ মালিকানাধীন লেকের অংশবিশেষ মাটি ভরাট করে ব্যক্তিগত বাঁধ বা রাস্তা তৈরি করেন। এতে বিস্তীর্ণ লেকটি দুটি বিচ্ছিন্ন জলাশয়ে পরিণত হয়েছে এবং স্বাভাবিক পানি প্রবাহ পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।


জনদুর্ভোগ ও ক্ষোভ: প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কীভাবে এই দখলদারিত্ব চলছে, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। স্থানীয় সবজি ব্যবসায়ী মো. খালেক শেখ ও আব্দুর রহিম জানান, প্রকাশ্যে সরকারি সম্পত্তি ও লেক ভরাট করে ব্যক্তিগত রাস্তা তৈরি করা হলেও অজ্ঞাত কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। এভাবে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকলে ডুমুরিয়া পরিষদ এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষকও লেক ভরাট বন্ধে ও অবৈধ উচ্ছেদে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন।


অভিযুক্ত ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য: অভিযোগের বিষয়ে খান আছাবুর রহমান সরকারি জমি দখলের বিষয়টি অস্বীকার করলেও লেকে বাঁধ দিয়ে রাস্তা বানানোর কথা স্বীকার করে জানান, সাময়িক চলাচলের সুবিধার্থে এটি করা হয়েছে এবং এর জন্য প্রশাসনের কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি।
ডুমুরিয়া উপজেলা ভূমি অফিসের সদ্য বদলি হওয়া সার্ভেয়ার মো. মিজানুর রহমান জানান, আনসার-ভিডিপি অফিসের পেছনে পরিষদের ১০ শতাংশ জমি দখল করে অবকাঠামো গড়া হয়েছে এবং সামনে সরকারি লেকে বাঁধ দেওয়া হয়েছে। সরকারি সম্পদ উদ্ধারে দ্রুত এসব উচ্ছেদ করা প্রয়োজন।
সার্বিক বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবিতা সরকার জানান, বিষয়টি প্রশাসন গুরুত্বের সাথে আমলে নিয়েছে। ইতোমধ্যে দখলদারদের যাবতীয় নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অতি দ্রুতই ওই অবৈধ স্থাপনা এবং লেকের ওপর দেওয়া বাঁধ ভেঙে অপসারণ করা হবে।