Home Lead নদীর পেটে একের পর এক স্বপ্নের ঘরবাড়ি, মানচিত্র থেকে মুছে যাচ্ছে রামপালের...

নদীর পেটে একের পর এক স্বপ্নের ঘরবাড়ি, মানচিত্র থেকে মুছে যাচ্ছে রামপালের গ্রাম

2

রামপাল (বাগেরহাট) প্রতিনিধি।।

মোংলা-ঘোষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ চ্যানেলের ভয়াবহ নদীভাঙনে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার একের পর এক জনপদ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। নদীর তীব্র স্রোত ও ঢেউয়ের আগ্রাসনে এরই মধ্যে ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে শতাধিক পরিবার। পাশাপাশি চরম ঝুঁকিতে রয়েছে আরও দেড় শতাধিক পরিবার, সরকারি দপ্তরসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

কালবেলার অনুসন্ধান ও সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, অপরিকল্পিত ড্রেজিং এবং আন্তর্জাতিক রুটটিতে নিয়মিত ভারী নৌযান চলাচলের ফলে সৃষ্ট ঢেউয়ে প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা নদীতে ধসে পড়ছে।

রামপালের পেড়িখালী ইউনিয়নের রোমজাইপুর এলাকায় নদীতে বিলীন হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০টি বসতবাড়ি। সিংগড়বুনিয়ার খেয়াঘাটের যাত্রীছাউনিটিও নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পথচারীরা।

অন্যদিকে ওড়াবুনিয়া এলাকায় রামপাল কৃষি অফিস থেকে বগুড়া ব্রিজ পর্যন্ত এলাকা তীব্র ভাঙনের মুখে পড়েছে; সেখানে গৃহহীন হয়েছে প্রায় ৪০টি পরিবার এবং ঝুঁকিতে রয়েছে উপজেলা কৃষি অফিস ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস। ২০২০ সালে এলজিইডি কর্তৃক নির্মিত প্রায় ২১ লাখ ৫৫ হাজার টাকার ৬২০ মিটার দীর্ঘ বক্স কালভার্টটির সিংহভাগই নদী কুরে খেয়েছে। এছাড়া হুড়কা ইউনিয়নের গোলারডাঙ্গি এলাকাতেও ১৫ থেকে ২০টি পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। ভাঙনের মুখে বিলীন হয়েছে প্রায় ৬ থেকে ৭ কিলোমিটার পাকা সড়ক।

মোংলা-ঘোষিয়াখালী চ্যানেল রক্ষা সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব এম. এ. সবুর রানা জানান, ২০১১-১২ অর্থবছরে সরকারের উদ্যোগে নদীটি খনন করা হলেও সিইজিআইএস (CEGIS)-এর দায়সারা রিপোর্টে ডিপিপি অনুযায়ী নির্ধারিত ৮৩টি খাল ও নদী খনন করা হয়নি। ফলে দ্বিমুখী স্রোতের স্বাভাবিক গতি বাধাগ্রস্ত হয়ে এই তীব্র ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। রামপাল উপজেলা উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন শেখ দীর্ঘদিনের দাবিকৃত ৩৪/২ নম্বর ফোল্ডার ওয়াপদা বেড়িবাঁধ বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন।

বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত পাল জানান, চ্যানেলের রামপাল অংশের ৫-৬টি পয়েন্টে ভাঙন তীব্র। এর মধ্যে ৩টিতে কাজ শুরু হয়েছে এবং বড় পয়েন্টগুলোতে টেকসই পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম এলাকা পরিদর্শন শেষে জানান, ড্রেজিং ও জাহাজের ঢেউয়ের প্রভাবে ভাঙন বাড়ছে। পাইলিং বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে এটি রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে কার্যকর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকারিভাবে কিছু খাদ্য ও ঢেউটিন সহায়তা দেওয়া হলেও স্থানীয়রা একে সাময়িক বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এলাকাবাসীর স্পষ্ট দাবি—নদীর আঁকাবাঁকা গতিপথ সোজা করা, জিও ব্যাগ ফেলা এবং পুরো এলাকা রক্ষায় অবিলম্বে ‘টেকসই বেড়িবাঁধ’ নির্মাণ না করলে আগামী ১০-১৫ বছরে মানচিত্র থেকেই মুছে যাবে উপকূলীয় রামপালের একাধিক গ্রাম।