ঢাকা অফিস।।
বাংলাদেশি রোগীদের মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও সহজ ও রোগীবান্ধব করতে নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছে মালয়েশিয়া হেলথকেয়ার ট্রাভেল কাউন্সিল (এমএইচটিসি)। এ লক্ষ্যে চিকিৎসার আগে, চিকিৎসাকালীন এবং চিকিৎসা-পরবর্তী সময়ে রোগীদের সহায়তা বাড়ানো, টেলিমেডিসিনসেবা সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের স্বাস্থ্য খাতের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেছে এমএইচটিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) দাতো সুরিয়াগান্ধী সুপ্পিয়াহর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল। বৈঠকে এমএইচটিসির পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির অ্যাডভাইজর ও মালয়েশিয়া বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ট্রেড রিলেশন্স অ্যাসোসিয়েশনের এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান মাহবুব আলম শাহ।
বাংলাদেশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার শাহানারা মনিকা, বাণিজ্য উইংয়ের প্রথম সচিব প্রণব কুমার ঘোষ ও ৩য় সচিব (রাজনৈতিক) এসএম সায়েম বৈঠকে অংশ নেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশি রোগীদের মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা নিতে আসার ক্ষেত্রে বিভিন্ন পর্যায়ে যে জটিলতা তৈরি হয়, তা কমিয়ে পুরো ‘পেশেন্ট জার্নি’ বা রোগীর চিকিৎসা-যাত্রাকে আরও নির্বিঘ্ন করার বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। রোগীদের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ, প্রয়োজনীয় সহায়তা, চিকিৎসা-পরবর্তী ফলোআপ এবং টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়।
চিকিৎসা পর্যটন খাতে হাসপাতাল, এমএইচটিসি, রোগী সহায়তাকারী এজেন্টসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও বৈঠকে ওঠে আসে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীর অভিজ্ঞতা শুধু হাসপাতালের চিকিৎসার ওপর নির্ভর করে না। ভিসা ও ভ্রমণ প্রস্তুতি থেকে শুরু করে হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ, চিকিৎসাগ্রহণ, থাকা-খাওয়া এবং দেশে ফেরার পর চিকিৎসা-পরবর্তী ফলোআপ পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে বিভিন্ন পক্ষ জড়িত। এসব ক্ষেত্রে সমন্বিত সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে রোগীদের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি চিকিৎসা পর্যটন খাতেও আস্থা বাড়বে।
এর আগে বাংলাদেশ সফরের সময় বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রীর সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা পর্যটন নিয়ে আলোচনা করে এমএইচটিসি। সেই ধারাবাহিকতায় এবার কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে বৈঠক হলো।
এদিকে বাংলাদেশে আবারও ‘মালয়েশিয়া হেলথকেয়ার উইক’ আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। এ আয়োজনকে সামনে রেখে বাংলাদেশি রোগী, স্বাস্থ্যসেবাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও মালয়েশিয়ার চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যোগাযোগ আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।










































