স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনা বিভাগজুড়ে হু-হু করে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে নতুন করে ৩৩৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। এতে করে চলতি বছরে বিভাগে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৭ হাজার ১৮৩ জনে। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৮৮৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
পরিসংখ্যান ও বর্তমান চিত্র:
বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া ৩৩৪ জন রোগীর মধ্যে ২৮৭ জন সরকারি হাসপাতালে এবং ৪৭ জন বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৩০৬ জন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভাগে মোট আক্রান্ত ৭ হাজার ১৮৩ জনের মধ্যে ৬ হাজার ১১২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এই সময়ে নতুন করে কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও চলতি বছরে বিভাগে মোট ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
জেলাভিত্তিক আক্রান্তে শীর্ষে খুলনা:
জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে জানা যায়, বিভাগে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা খুলনা জেলায়। জেলাটিতে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২ হাজার ৬১১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর বাইরে শুধু খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই ১ হাজার ৬৭৫ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। সংক্রমণের দিক থেকে দ্বিতীয় শীর্ষে রয়েছে বাগেরহাট—সেখানে আক্রান্ত ১ হাজার ২১২ জন। এছাড়া যশোর জেলায় ৬৬০ জন এবং নড়াইলে ২৬০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
প্রশাসনের বক্তব্য ও পদক্ষেপ:
খুলনা জেলায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে সিভিল সার্জন ডা. মাহফুজা খাতুন জানান, সংক্রমণ শুরুর আগে থেকেই গত তিন মাস ধরে প্রতি শনিবার জেলার হাসপাতালগুলোতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে তৈরি করা হয়েছে ‘ডেঙ্গু আইসোলেশন সেন্টার’। সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রাদুর্ভাব বেশি থাকায় ওয়ার্ডভিত্তিক মেডিকেল টিম গঠন করে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা কাজ করছেন।
খুলনা বিভাগের সার্বিক ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, “বর্ষার শুরুতে খুলনায় ডেঙ্গুর লার্ভা ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নগরের অনেক ড্রেন উঁচু হওয়ায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং জমে থাকা পানিতে মশার বংশবৃদ্ধি ঘটছে। তবে স্বাস্থ্য বিভাগ মশক নিধন ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। বর্ষার প্রভাব কমে এলে প্রকোপও কমে আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।”










































