Home আঞ্চলিক দালালের খপ্পরে নিখোঁজ শার্শার ৫ যুবক, সন্ধান মেলেনি ৩ বছরেও

দালালের খপ্পরে নিখোঁজ শার্শার ৫ যুবক, সন্ধান মেলেনি ৩ বছরেও

6


বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি।।

ভালো কাজের আশায় দালালের মাধ্যমে লিবিয়া যাওয়ার পথে যশোরের শার্শার ৫ যুবক নিখোঁজ রয়েছেন তিন বছর ধরে।

স্বজনদের অভিযোগ, এ সময় তাদের সন্ধান তো মেলেইনি, উল্টো জমি জমাবেচা ও ধারদেনার টাকা শোধ করতে গিয়ে পরিবারগুলো এখন চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে।

সম্প্রতি নিখোঁজদের স্বজনরা পুলিশ ও প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে অবশেষে যৌথভাবে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন।

নিখোঁজ যুবকেরা হলেন—শার্শা উপজেলার ধানখোলা গ্রামের ইয়াসিন আরাফাত, আনোয়ার হোসেন, রানা হোসেন, শাহিন আলম ও মেহেদী হাসান।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, ধানখোলা গ্রামের সোহাগ নামের এক দালাল লিবিয়ায় আকর্ষণীয় বেতনের কাজের প্রলোভন দেখিয়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৯ থেকে ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। এ টাকার একটি বড় অংশ দালাল সোহাগের বাবা, মা ও বোনের হাতেও তুলে দেওয়া হয়েছিল।

যুবকদের বিদেশে পাঠানোর পর লিবিয়া পৌঁছানোর আগেই স্বজনদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। প্রথমে দালাল সোহাগ কথা বলিয়ে দেওয়া, টাকা ফেরত দেওয়া ও যুবকদের দেশে ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন করেননি; একপর্যায়ে তিনি সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
নিখোঁজ শাহিন আলমের মা আমেনা বেগম ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সালিশের নামে সুবিধা নিয়েও কোনো সমাধান দিতে পারেননি।

অভিযোগ অস্বীকার করে দালাল সোহাগের বাবা মফিজুর রহমান জানান, তার ছেলে গত তিন বছর ধরে লিবিয়ায় রয়েছে। যে লোক বিদেশে নেয়—এটা সত্য হলেও বর্তমানে তার সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ নেই। তিনি নিজে কোনো টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং ছেলের কোনো অপরাধের দায় নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

মানবাধিকার কর্মী নজরুল ইসলাম জানান, কেবল শার্শার এই পাঁচ যুবকই নন, একই সময়ে লিবিয়া যাওয়ার পথে নড়াইল, বাগেরহাট ও ফরিদপুরের আরও অন্তত ৩৫ জন যুবক নিখোঁজ রয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের সক্রিয়তার মারাত্মক ইঙ্গিত দেয়। সরকারি উদ্যোগে দ্রুত পদক্ষেপ নিলে তাদের উদ্ধারের আশা দেখছেন তিনি।

শার্শা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আশিস সরকার জানান, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার সত্যতা ও জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।