মিরি রহমান।।
পেটের বাড়তি মেদ, সারা দিন বসে থাকা কিংবা অতিরিক্ত মিষ্টি পানীয় এসবকে হয়তো অনেকেই কেবল ওজন বাড়ার কারণ হিসেবে দেখেন। কিন্তু শরীরে নীরবে জমতে থাকা এই বাড়তি চর্বি কখন যে লিভার থেকে প্রজননস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলছে, তা অনেক সময় টেরই পাওয়া যায় না।
চিকিৎসকদের মতে, ফ্যাটি লিভার শুধু লিভারের অসুখ নয়। এই সমস্যার সঙ্গে হরমোনের ভারসাম্য এবং নারী-পুরুষের সন্তান ধারণের সক্ষমতারও যোগসূত্র রয়েছে। বর্তমানে ফ্যাটি লিভার শুধু ৪০ বা ৫০ বছরের মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ২০ ও ৩০ বছর বয়সীদের মধ্যেও এই সমস্যা বাড়ছে। এমনকি যারা মদ্যপান করেন না, তাদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (এনএএফএলডি)।
ভারতের বেঙ্গালুরুর বিরলা ফার্টিলিটি অ্যান্ড আইভিএফের ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞ ডা. মঞ্জুনাথ সি এস জানান, অতিরিক্ত ওজন, পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার এবং দিনের বেশির ভাগ সময় শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকার কারণে লিভারে চর্বি জমতে পারে। সমস্যার বড় দিক হলো, শুরুতে ফ্যাটি লিভারের তেমন কোনো স্পষ্ট উপসর্গ নাও থাকতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে স্ক্যান বা রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এটি ধরা পড়ে।
লিভারের সঙ্গে সন্তান ধারণের সম্পর্ক
লিভার শরীরে ইনসুলিন ও বিপাকীয় ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমলে শরীর ইনসুলিনের প্রতি ঠিকভাবে সাড়া না দেয়ার প্রবণতা তৈরি করতে পারে। একে বলা হয় ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স। ডা. মঞ্জুনাথের মতে, ইনসুলিনের এই ভারসাম্যহীনতা প্রজনন হরমোনেও প্রভাব ফেলতে পারে।
নারীদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়তে পারে ডিম্বস্ফোটন ও পিরিয়ড নিয়মিত হওয়ার ওপর।
ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের সঙ্গে পিসিওএসের সম্পর্ক রয়েছে, আর পিসিওএসের কারণে অনেক নারীর ডিম্বস্ফোটনে সমস্যা দেখা দিতে পারে। ফলে সন্তান ধারণে দেরি হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়তে পারে। অন্যদিকে পুরুষদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের সঙ্গে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা এবং শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যাওয়ার মতো নেতিবাচক প্রভাবের সম্পর্ক রয়েছে।
কোন লক্ষণগুলো অবহেলা করবেন না?
- * দীর্ঘদিনের ক্লান্তি, পেটের চারপাশে অতিরিক্ত মেদ।
- * ডান পাঁজরের নিচে ভারী লাগা।
* পিরিয়ড হঠাৎ অনিয়মিত হয়ে যাওয়া।
* পরিবারে ডায়াবেটিস বা ফ্যাটি লিভারের ইতিহাস।
* কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই সন্তান ধারণে সমস্যা।
* এসব লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সব সমস্যার সমাধান আছে। ফ্যাটি লিভার মানেই এই না যে সব শেষ। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করা গুরুত্বপূর্ণ। সেই সঙ্গে আপনি কী খাচ্ছেন, কতটুকু বিশ্রাম নিচ্ছেন, কখন খাবার খাচ্ছেন এসব বিষয়ের দিকেও নজর দিতে হবে। আর চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন এতে আপনার ফ্যাটি লিভারের সমস্যা অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে।











































