Home আঞ্চলিক মেহেরপুরে কৃষকের আয়ের নতুন সমীকরণ: সোনালী আঁশের পর এখন ‘পাটখড়ি’তেও বড় লক্ষ্মীলাভ

মেহেরপুরে কৃষকের আয়ের নতুন সমীকরণ: সোনালী আঁশের পর এখন ‘পাটখড়ি’তেও বড় লক্ষ্মীলাভ

0

মেহেরপুর প্রতিনিধি।।

একসময় গ্রামে পাট কাটার পর শুকানো পাটখড়ি পড়ে থাকত খেতেই, কিংবা মাটির উনুনে ব্যবহারের পর থেকে যেত অবহেলায়। সময়ের বিবর্তনে সেই উপজাত পণ্যটিই এখন মেহেরপুরের কৃষকদের কাছে অন্যতম লাভজনক কৃষি পণ্যে পরিণত হয়েছে। পাটের আশানুরূপ বাজারদর না পেলেও কেবল পাটখড়ি বিক্রি করে উৎপাদন খরচের বড় অংশ তুলে নিচ্ছেন স্থানীয় চাষিরা।

লাভ-ক্ষতির হিসাব ও অর্থনৈতিক চিত্র:

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ১৬ হাজার ৬৩০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতি বিঘা জমিতে পাট উৎপাদনে খরচ হয় প্রায় ২০ থেকে ২৬ হাজার টাকা। গড়ে ১০ মণ পাট বিক্রি করে ৩০ হাজার টাকার মতো ঘরে উঠলেও প্রকৃত লাভ থাকে বেশ সীমিত। তবে হিসাব বদলে দিচ্ছে পাটখড়ি। প্রতি বিঘার পাটখড়ি মানভেদে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কৃষকের নিট মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ব্যবহারের বহুমুখী প্রসার:

মেহেরপুর সদর উপজেলার পিরোজপুর ও কালাচাঁদপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের চাষিরা জানান, জ্বালানি ছাড়াও গৃহস্থালির কাজের পরিধি ছাপিয়ে পাটখড়ির ব্যাপক বাণিজ্যিক চাহিদা তৈরি হয়েছে।

গ্রামীণ ব্যবহার: বাসাবাড়ি ও গোয়ালঘরের বেড়া, কৃষি জমির সুরক্ষা প্রাচীর এবং অস্থায়ী ঘের তৈরিতে এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।

শহুরে বাজার: গ্রামের সীমা ছাড়িয়ে এখন মেহেরপুর শহরেও ফেরি করে বিক্রি হচ্ছে পাটখড়ি। জাহিদুল ইসলাম নামের এক স্থানীয় ব্যবসায়ী জানান, এক বিঘা জমির পাটখড়ি ১০-১৫ হাজারে কিনে তা শহরের ক্রেতাদের কাছে ২৫-৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে।

শিল্প সম্ভাবনা: পাটখড়ি থেকে পার্টিকেল বোর্ড, ফাইবারবোর্ড, কাগজ এবং বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব হস্তশিল্প তৈরির ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য:

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতে কাঁচামাল হিসেবে পাটখড়ির ব্যবহার বাড়লে এটি গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সনজীব মৃধা জানান, “পাটখড়ির ভালো চাহিদা ও বাজারদর পাটের উৎপাদন খরচ অনেকটাই সহজ করে দিয়েছে। এর ফলে চাষিরা নতুন করে পাট চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাতকরণ করা গেলে এবং শিল্প পর্যায়ে এর বহুমুখী ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষুদ্র শিল্প ও প্রচুর কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।”