Home আঞ্চলিক বর্ষায় দুই যুগ ধরে জমে উঠেছে পাটকেলঘাটার ‘নৌকা রাজ্য’: সহজ ঋণের দাবি...

বর্ষায় দুই যুগ ধরে জমে উঠেছে পাটকেলঘাটার ‘নৌকা রাজ্য’: সহজ ঋণের দাবি কারিগরদের

0

পাটবেলঘাটা সাতক্ষীরা প্রতিনিধি।।

কোথাও করাত দিয়ে কাঠ কাটার কর্কশ শব্দ, কোথাও বা পেরেক ঠোকার একটানা ঠকঠকানি। হাতুড়ি-বাটাল হাতে কারিগরেরা কেউ নৌকার মূল কাঠামো দাঁড় করাচ্ছেন, কেউবা তক্তায় তক্তা মিলিয়ে রূপ দিচ্ছেন কাঙ্ক্ষিত ডিঙির। আবার শেষ মুহূর্তে আলকাতরা ও প্রলেপ মেখে পানি নিরোধক করতে ব্যস্ত একদল শ্রমিক। সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটার বলফিল্ড সংলগ্ন সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের দু’পাশ ধরে এগোলেই চোখে পড়বে সারি সারি নৌকার এমন বিশাল কর্মযজ্ঞ।

দুই যুগের ঐতিহ্য ও ভৌগোলিক গুরুত্ব:

বর্ষাকালে নিচু এলাকার জলাবদ্ধতা ও নদীবেষ্টিত দক্ষিণাঞ্চলের যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে বিগত দুই যুগ ধরে পাটকেলঘাটায় গড়ে উঠেছে প্রায় ২০টি ক্ষুদ্র নৌকা তৈরির কারখানা। স্থানীয় প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি এখানকার তৈরি সুদৃঢ় নৌকা এখন সাতক্ষীরা পেরিয়ে খুলনা, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হচ্ছে।

কাঠের বিবরণ ও কাজের ব্যস্ততা:

সাধারণত কড়াই, মেহগনি, চম্বল ও ইপিল-ইপিল জাতীয় টেকসই কাঠ দিয়ে এখানকার কারিগরেরা তৈরি করছেন ডিঙি, জেলে, টাবুরি ও খেয়া নৌকা।

উৎপাদন সময়: দক্ষতা ও দলগত কাজের গুণে একটি সম্পূর্ণ নৌকা তৈরিতে সময় লাগে মাত্র ১ থেকে ২ দিন।

কর্মসংস্থান: প্রায় ২০টি কারখানায় দেড় শতাধিক দক্ষ কারিগর দৈনিক গড়ে ২০ থেকে ২৫টি নৌকা তৈরি করছেন।

উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও শিল্পটির সংকট:

কাজের ব্যাপক ব্যস্ততা থাকলেও কাঁচামালের চড়া দামে চিন্তার ভাঁজ মালিক ও কারিগরদের কপালে। ব্যবসায়ীদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে কাঠ, পেরেক, আলকাতরাসহ প্রতিটি উপকরণের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফলে উৎপাদন খরচ বাড়লেও নৌকার কাক্সিক্ষত বিক্রয়মূল্য না পাওয়ায় কমে এসেছে নিট মুনাফা।

প্রত্যাশা ও সম্ভাবনা:

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই হস্তশিল্পটি কেবল কারিগরদের হাতের দক্ষতায় টিকে আছে। স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, আধুনিক প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ এবং সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা গেলে পাটকেলঘাটার এই কুটির শিল্পটি পুরো দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বড় কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অর্থনীতির শক্ত ভিত্তিলূপে গড়ে উঠতে পারে।