Home আঞ্চলিক খুলনায় রঙিন মাছ ও সমন্বিত খামারে রাহুলের সাফল্য: অনুপ্রাণিত হচ্ছেন নতুন উদ্যোক্তারা

খুলনায় রঙিন মাছ ও সমন্বিত খামারে রাহুলের সাফল্য: অনুপ্রাণিত হচ্ছেন নতুন উদ্যোক্তারা

0

স্টাফ রিপোর্টার।।

সঠিক পরিকল্পনা, পরিশ্রম আর আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে অনন্য এক কৃষি ও মৎস্য বিপ্লব ঘটিয়েছেন খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বান্দা গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা রাহুল বিশ্বাস। বাড়ির আঙিনায় বিশ্বমানের অর্নামেন্টাল বা রঙিন মাছের প্রজনন ও পোনা উৎপাদন, ঘেরে উন্নত জাতের অল-মেল গলদা-বাগদা চিংড়ি চাষ, আইলে বিষমুক্ত সবজি ফালানো এবং পশুপাখি পালন করে নিজের জীবনে এনেছেন অভাবনীয় সাফল্য। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘বিশ্বাস এগ্রো প্রজেক্ট ও মৎস্য হ্যাচারি’ এখন গোটা দক্ষিণাঞ্চলের বেকার তরুণদের জন্য অনুকরণীয় মডেল।

যেভাবে যাত্রা শুরু:

কৃষি কলেজের শিক্ষার্থী থাকাকালীনই রাহুলের ঝোঁক ছিল আধুনিক কৃষির দিকে। দীর্ঘদিন ধরে সফলভাবে গলদা ও বাগদা চিংড়ি চাষ করার পর, বাজারে অ্যাকুয়ারিয়ামের সৌখিন মাছের আকাশচুম্বী চাহিদা দেখে দুই বছর আগে অর্নামেন্টাল ফিশ বা রঙিন মাছ চাষের উদ্যোগ নেন। তিনটি বিশালাকার হাউস, ছয়টি পুকুর এবং আধুনিক পানির পাম্পের সমন্বয়ে তিনি গড়ে তোলেন বিশেষায়িত হ্যাচারি।

রঙিন মাছের বিশ্ব ও বাজারজাতকরণ:

বর্তমানে রাহুলের হ্যাচারিতে মলি, মুন্টেল, কমেন্ট, শেখ পোলার, অ্যাঞ্জেল, গাপ্পি, গোল্ডফিশ, কৈ-কার্প, বাটারফ্লাই ও টেট্রাসহ প্রায় ২০টি দুর্লভ প্রজাতির রঙিন মাছ উৎপাদিত হচ্ছে।

সংগ্রহ ও সরবরাহ: খুলনার স্থানীয় বাজার (যেমন খালিশপুর) থেকে শুরু করে ঢাকার কাটাবন পর্যন্ত বড় বড় মৎস্য ব্যবসায়ীরা নিয়মিত তাঁর কাছ থেকে মাছ কিনছেন। অক্সিজেন প্যাকেজিংয়ের মাধ্যমে দেশের যেকোনো জেলায় সুনিপুণভাবে মাছ পৌঁছানোর ব্যবসাও গড়ে তুলেছেন তিনি।

মূল্য ও আয়: জাতভেদে প্রতি পিস বা জোড়া মাছ ২০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।

১৬ বিঘায় এক খামার, বহুমুখী আয়:

রাহুলের পারিবারিক ১৬ বিঘা জমিতে রয়েছে ৯টি সুবিশাল পুকুর। এর মধ্যে আটটিতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ‘অল-মেল’ (শুধু পুরুষ জাতের) গলদা এবং একটিতে ‘সিপি’ প্রযুক্তিতে বাগদা চিংড়ি চাষ হচ্ছে। ঘেরের পাড়ে রোপণ করা হয়েছে শসা, বরবটি ও লাউয়ের মতো বিষমুক্ত নানা সবজি। এর পাশাপাশি তাঁর প্রজেক্টে রয়েছে গবাদিপশুর প্রজনন কেন্দ্র, উন্নত জাতের বিদেশি কুকুর এবং ছাদে বাহারি প্রজাতি ও জাতের কবুতর পালন কেন্দ্র।

কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক লাভ:

তরুণ এই সফল উদ্যোক্তা জানান, “সৌখিন মাছের চাহিদা বছরজুড়েই সমভাবে বজায় থাকে। আমার প্রজেক্টে স্থায়ীভাবে ৬ জন শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। সার্বিক খরচ বাদ দিয়ে বছরে আমার ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা নিট মুনাফা থাকে।”

প্রশাসন ও বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন:

স্থানীয় সফল গলদা-বাগদা চাষি ও কলেজ শিক্ষক নিত্যানন্দ মণ্ডল বলেন, “রঙিন মাছের কৃত্রিম প্রজননে রাহুলের আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি এ অঞ্চলের বেকার যুবকদের উদ্যোক্তা হতে উৎসাহিত করবে।”

ডুমুরিয়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান রিগ্যান বলেন, “চিংড়িপ্রধান এই অঞ্চলে সৌখিন রঙিন মাছ চাষের আইডিয়াটি বেশ সম্ভাবনাময়। রাহুল যেভাবে পেশাদারিত্বের সাথে সমন্বিত চাষাবাদ করছেন তা এককথায় অসাধারণ। মৎস্য দপ্তরের পক্ষ থেকে তাঁকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।”