Home আঞ্চলিক সংবাদ প্রকাশের জেরে সাতনদী সম্পাদকের ওপর হামলার অভিযোগ, থানায় এজাহার

সংবাদ প্রকাশের জেরে সাতনদী সম্পাদকের ওপর হামলার অভিযোগ, থানায় এজাহার

8

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরায় দৈনিক সাতনদী পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক হাবিবুর রহমানের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (০৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাতক্ষীরা পৌরসভা কার্যালয়ের ভেতরে তাকে মারধর, গলা চেপে ধরার চেষ্টা ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে থানায় দেওয়া এজাহারে উল্লেখ করেছেন তিনি। এ ঘটনায় হাফিজ নামে এক ব্যক্তিসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

হাবিবুর রহমান সাতক্ষীরা জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদকও। তার দেওয়া এজাহার অনুযায়ী, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার চকবড়া গ্রামের খবির গাজীর ছেলে হাফিজ তার দূরসম্পর্কের আত্মীয়ের জামাতা মো. নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় বেশ কিছুদিন ধরে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন।

এজাহারে হাবিবুর রহমান উল্লেখ করেন, রোববার বেলা পৌনে দুইটার দিকে তিনি ব্যবসায়িক ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের জন্য সাতক্ষীরা পৌরসভায় যান। পৌরসভার ফটকের কাছে পৌঁছালে হাফিজ ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন তাকে পথরোধ করেন। এ সময় হাফিজ তাকে উদ্দেশ করে বলেন, আমার বোনের জামাইয়ের বিরুদ্ধে তুই নিউজ করেছিস। আজ তোকে জীবনে শেষ করে দেব।

এরপর হাবিবুর রহমান পৌরসভার ভেতরে যান। বেলা দুইটার দিকে তিনি লাইসেন্স শাখার ১১৪ নম্বর কক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। তখন হাফিজসহ অজ্ঞাতনামা দুই থেকে তিনজন সেখানে ঢুকে তাঁকে গালিগালাজ করতে থাকেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

হাবিবুর রহমানের অভিযোগ, একপর্যায়ে হাফিজ তার জামার কলার ধরে টানাহেঁচড়া করেন এবং মুখে ঘুষি মারেন। এতে তার মুখে রক্তাক্ত জখম হয়। এরপর ঘাড়ে ঘুষি মারা ও গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয়। তার বাঁ বুকেও তিন থেকে চারটি ঘুষি মারা হয়। সঙ্গে থাকা অন্য ব্যক্তিরা তাকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ সময় পৌরসভার লাইসেন্স শাখার কর্মকর্তা রায়হান আহমেদ ও জুলহাস উদ্দিনসহ অন্যরা তাকে হামলাকারীদের হাত থেকে উদ্ধার করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া আবদুল্লাহ আল মাসুদ নামের আরেক ব্যক্তি ঘটনাটি দেখেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

হামলার পরও হাফিজ ও তার সহযোগীরা হাবিবুর রহমানকে হুমকি দেন বলে এজাহারে বলা হয়েছে। তারা মামলা করলে কিংবা তাদের বিরুদ্ধে আবার কোনো সংবাদ প্রকাশ করলে তাকে হত্যা, গুরুতর জখম, অপহরণ করে গুম এবং প্রকাশ্যে অপমান করার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

হাবিবুর রহমান বলেন, হামলার পর তিনি জরুরি সহায়তার জন্য ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেন। শারীরিকভাবে কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর তিনি থানায় এজাহার দেন।

দৈনিক সাতনদী সূত্রে জানা গেছে, পত্রিকাটিতে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে শ্যামনগরের দাঁতভাঙা কলেজের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। এসব প্রতিবেদনের সূত্র ধরে নাসির উদ্দিনকে নিয়েও সংবাদ প্রকাশ করা হয়। হাবিবুর রহমানের অভিযোগ, ওই সংবাদ প্রকাশের জেরেই হাফিজ তার ওপর ক্ষুব্ধ হন এবং তাকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, ষয়টি আমি অবগত নই। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাংবাদিক নেতারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে কোনো সাংবাদিককে হুমকি, হামলা বা ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য উদ্বেগজনক। অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।