শাহ তানভীর আহমেদ।।
খুলনা মহানগরীতে অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ও সুয়ারেজ ব্যবস্থার কারণে ডেঙ্গুর ভয়াবহ রূপ ধারণের চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) মশক নিধনে ফগার মেশিন ও স্প্রে ব্যবহার করলেও ওয়াসা কর্তৃক নির্মিত মল-বর্জ্য ও পানি নিষ্কাশনের ঢাকনাসংযুক্ত চেম্বারগুলোই এখন মশার প্রজননকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। নগরের রাস্তার প্রতি ৫ থেকে ১০ গজ পরপর অবস্থিত এসব বন্ধ ও অর্ধ-খোলা চেম্বারের ভেতরে জমে থাকা স্থবির পানি মশার আকড়ায় রূপ নিয়েছে, যা সাধারণ নগরবাসীর জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।
নগরবাসীর অভিযোগ, খুলনা ওয়াসা সুয়ারেজ লাইনের যেসব চেম্বার বা ঢাকনা তৈরি করেছে, সেগুলোতে প্রতিনিয়ত পানি জমে থাকে। বর্ষার পানি ও ভেতরের বদ্ধ আবর্জনার সংমিশ্রণে এগুলো এডিসসহ বিভিন্ন প্রজাতির মশার প্রধান অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। অথচ কেসিসির মশক নিধন কর্মীদের এসব চেম্বারের ভেতরে কীটনাশক প্রয়োগ করতে দেখা যায় না। ফলে মশক নিধনের সার্বিক কার্যক্রম কেবল লোকদেখানো অভিযানে সীমাবদ্ধ থাকছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আক্ষেপ করে জানান, ওয়াসের এসব চেম্বার নির্মাণের পূর্বেও শহরে মশার উপস্থিতি ছিল, তবে ডেঙ্গু পরিস্থিতি কখনোই এমন মহামারী বা আতঙ্কজনক রূপ নেয়নি। এই চেম্বার নেটওয়ার্ক তৈরির পর থেকেই শহরে মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে, যা নগরবাসীকে প্রতিনিয়ত চরম বিপদ ও অস্থিরতার মধ্যে রাখছে।
শুধু মশার উপদ্রবই নয়, ওয়াসের এই চেম্বারগুলোর কারণে নগরীর নতুন ও পুরাতন অধিকাংশ সড়ক অসম ও চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। কেসিসি রাস্তা নতুন করে নির্মাণ বা পিচ ঢালাই করলেও চেম্বারগুলোর ঢাকনা রাস্তার সমতলে না থাকায় সড়ক উঁচুমুখী ও খানাখন্দে ভরা থাকছে। এতে গাড়ি চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং মাঝেমধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা।
চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে নগরবাসী ও সচেতন মহল খুলনা সিটি কর্পোরেশন ও ওয়াসা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাদের স্পষ্ট দাবি-অবিলম্বে জরুরি ভিত্তিতে এসব চেম্বারের ভেতরে কার্যকর কীটনাশক প্রয়োগের সুব্যবস্থা করতে হবে। যদি মশক নিয়ন্ত্রণে এটি কার্যকর না করা যায়, তবে এসব চেম্বার স্থায়ীভাবে বন্ধ করে সংস্কার করতে হবে।










































