মিলি রহমান।।
‘হ্যাংলা’, ‘পাতলা’, ‘রোগা’ শরীরের গড়ন একটু চিকন হলেই এমন নানা মন্তব্য শুনতে হয় অনেককে। যেন শরীরের ওজন কম মানেই তিনি দুর্বল! অথচ বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন।
শরীরের ওজন কম হলেও একজন মানুষ যথেষ্ট শক্তিশালী ও কর্মক্ষম হতে পারেন। তবে অনেকের ক্ষেত্রে কম ওজন সত্যিই দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
নিয়মিত খাবার খেয়েও ওজন বাড়ে না, বরং একই জায়গায় আটকে থাকে। তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে, কেন এমন হচ্ছে? এর কোনো সমাধান কি নেই?
সমাধান অবশ্যই আছে-
তবে স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন বাড়ানো রাতারাতি সম্ভব নয়। ব্যক্তিভেদে শরীরের বিপাকক্রিয়া, খাদ্যাভ্যাস, দৈনন্দিন পরিশ্রম, ঘুম ও শারীরিক অবস্থার ওপর ওজন বাড়ার বিষয়টি নির্ভর করে। তাই শুধু বেশি বেশি খাওয়াই যথেষ্ট নয়; খাবারের ধরন ও জীবনযাপনের দিকেও নজর দিতে হবে।
খাবারের তালিকায় রাখুন পর্যাপ্ত কার্বোহাইড্রেট
আমাদের খাবারের তালিকায় ভাতের উপস্থিতি বেশ স্বাভাবিক। বিশেষ করে বাঙালির খাবারে ভাতের গুরুত্ব আলাদা। ওজন বাড়ানোর পরিকল্পনায়ও ভাত রাখা যেতে পারে। কারণ ভাতে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট, যা শরীরকে শক্তি জোগায়।
শুধু ভাতের পরিমাণ বাড়িয়ে দিলেই হবে না। ভাতের সঙ্গে ডাল, মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, সবজি ও স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার রাখলে খাদ্যতালিকা হবে বেশি ভারসাম্যপূর্ণ।
একবারে বেশি নয়, বারবার খান
অনেকক্ষণ না খেয়ে থেকে একসঙ্গে অনেক খাবার খাওয়ার চেষ্টা করলে সবার শরীর তা সহজে নিতে পারে না। বরং দিনের খাবারকে কয়েক ভাগে ভাগ করে খাওয়া যেতে পারে।
প্রধান খাবারের পাশাপাশি মাঝেমধ্যে পুষ্টিকর নাশতা রাখা ভালো। বাদাম, দই, ডিম, দুধ, কলা কিংবা অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার এ ক্ষেত্রে কাজে আসতে পারে।
খাবারের আগে অতিরিক্ত পানি নয়
খাওয়ার ঠিক আগে অনেকটা পানি পান করলে পেট ভরা লাগতে পারে। ফলে খাবারের পরিমাণ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই প্রধান খাবারের ঠিক আগে অতিরিক্ত পানি পান না করে দিনের অন্যান্য সময়ে পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস করুন।
চা-কফিতে অতিরিক্ত চিনি নয়
ওজন বাড়ানোর জন্য চা-কফিতে বেশি করে চিনি, দুধ, ক্রিম বা মালাই যোগ করা স্বাস্থ্যকর কৌশল নয়। এতে ক্যালোরি বাড়লেও অতিরিক্ত চিনি নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নাও হতে পারে।
বরং দুধ, দই, ডিম, বাদাম, বীজ, মাছ-মাংসসহ পুষ্টিকর ও ক্যালোরিসমৃদ্ধ খাবারকে খাদ্যতালিকায় গুরুত্ব দেওয়া বেশি কার্যকর।
ঘুমের দিকেও নজর দিন
ওজন ও শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার সঙ্গে ঘুমেরও সম্পর্ক রয়েছে। প্রতিদিন পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস করা জরুরি। শুধু বেশি ঘুমালেই ওজন বাড়বে, এমন ধারণা ঠিক নয়; বরং পর্যাপ্ত ঘুমের পাশাপাশি সুষম খাবার ও নিয়মিত জীবনযাপন প্রয়োজন।
শরীরচর্চা বাদ দেবেন না
ওজন বাড়াতে গিয়ে অনেকে ব্যায়াম পুরোপুরি বন্ধ করে দেন। এটি ঠিক নয়। বিশেষ করে শক্তি ও পেশি বাড়ানোর জন্য উপযুক্ত স্ট্রেংথ ট্রেনিং উপকারী হতে পারে। পর্যাপ্ত খাবারের সঙ্গে নিয়মিত ব্যায়াম শরীরকে শুধু ভারী নয়, তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী করতেও সাহায্য করতে পারে।
ধূমপান ও মাদক থেকে দূরে থাকুন
ধূমপান বা মাদকের অভ্যাস থাকলে তা শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন বাড়ানোর পরিকল্পনায় এসব অভ্যাস বাদ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু ওজন নয়, কারণটাও বুঝতে হবে
কেউ নিয়মিত ও পর্যাপ্ত খাবার খাওয়ার পরও যদি দীর্ঘদিন ধরে ওজন বাড়াতে না পারেন, তাহলে বিষয়টি শুধু ‘বেশি খাওয়া দরকার’ বলে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। কখনো কখনো দীর্ঘস্থায়ী কোনো শারীরিক সমস্যা, হজমের সমস্যা বা অন্য কোনো কারণেও ওজন কম থাকতে পারে। তাই নিজের মতো করে অতিরিক্ত খাবার খাওয়া বা নানা ধরনের সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
ওজন বাড়ানোর লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু শরীরের ওজনের সংখ্যা বাড়ানো নয়; বরং পুষ্টি, শক্তি ও সামগ্রিক সুস্থতা নিশ্চিত করা। চিকন শরীর নিয়ে অন্যের মন্তব্যে হতাশ না হয়ে নিজের শরীরের প্রয়োজন বুঝে ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।











































