মিলি রহমান।।
ঘাড়ে ব্যথা বা শক্ত হয়ে যাওয়াকে অনেকেই বয়স বাড়ার স্বাভাবিক লক্ষণ মনে করেন। কিন্তু সব ক্ষেত্রে তা নয়।
ঘাড়ের হাড় বা সার্ভিক্যাল স্পাইনে সমস্যা তৈরি হয়ে স্পাইনাল কর্ডে চাপ পড়লে শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
হিন্দুস্তান টাইমসে অর্থো-স্পাইন সার্জন ডা. হিতেশ গর্গ জানিয়েছেন, বয়সজনিত ক্ষয়, আর্থ্রাইটিস বা ডিস্ক ফুলে যাওয়ার কারণে ঘাড়ের স্পাইনাল ক্যানাল সরু হয়ে স্পাইনাল কর্ডে চাপ পড়তে পারে। এই অবস্থাকে সার্ভিক্যাল মায়েলোপ্যাথি বলা হয়। তার মতে, দৈনন্দিন জীবনে দেখা দিতে পারে এমন পাঁচটি লক্ষণ স্পাইনাল কর্ডে সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে।
হাতের জড়তা
স্পাইনাল কর্ডের সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণগুলোর একটি হতে পারে হাতের সূক্ষ্ম নড়াচড়ায় সমস্যা। বারবার হাত থেকে জিনিস পড়ে যাওয়া, কাপ ধরে রাখতে অসুবিধা, চাবি ব্যবহার, বোতাম লাগানো, জুতার ফিতা বাঁধা কিংবা গয়না পরার মতো কাজে আগের তুলনায় বেশি সমস্যা হতে পারে। স্পাইনাল কর্ডের ওপর চাপ পড়লে হাতের সূক্ষ্ম নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুর সংকেত ব্যাহত হতে পারে।
হাতের লেখায় পরিবর্তন
হাতের লেখা হঠাৎ ছোট হয়ে যাওয়া, এলোমেলো হয়ে যাওয়া বা আগের মতো নিয়ন্ত্রণ করতে না পারাও সতর্কতার লক্ষণ হতে পারে।
আঙুলের সমন্বয় ক্ষমতা কমে গেলে লেখার মতো সাধারণ কাজেও বেশি মনোযোগ ও পরিশ্রমের প্রয়োজন হতে পারে।
হাতে ঝিনঝিনি বা অবশভাব
ঘাড়ের স্পাইনাল কর্ড বা আশপাশের স্নায়ু আক্রান্ত হলে আঙুল, হাত বা বাহুতে ঝিনঝিনি, পিন ফোটার মতো অনুভূতি কিংবা অবশভাব দেখা দিতে পারে। শুরুর দিকে এসব উপসর্গ মাঝে মাঝে হওয়ায় অনেকেই গুরুত্ব দেন না। কিন্তু বারবার এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
হাঁটার সময় ভারসাম্য হারানো
স্পাইনাল কর্ডের সমস্যা শুধু হাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি শরীরের সমন্বয় ও ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলতে পারে। হাঁটার সময় পা ভারী মনে হওয়া, বারবার হোঁচট খাওয়া, হাঁটার সময় শরীর দুলে যাওয়া কিংবা ভারসাম্য রাখতে দেয়াল বা আসবাবপত্র ধরে হাঁটার প্রয়োজন হওয়া এর লক্ষণ হতে পারে। কখনো কখনো হাঁটার সমস্যা পা থেকে নয়, ঘাড়ের স্পাইনাল কর্ডের সমস্যা থেকেও হতে পারে।
ঘাড় শক্ত হয়ে থাকা বা অস্বস্তি
দীর্ঘদিন ধরে ঘাড় শক্ত হয়ে থাকা বা অস্বস্তি থাকলেও তা অবহেলা করা ঠিক নয়। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সার্ভিক্যাল মায়েলোপ্যাথি থাকলেও সবসময় তীব্র ঘাড়ের ব্যথা থাকবে এমন নয়। অর্থাৎ, ব্যথা খুব বেশি নেই বলেই ঘাড়ের গুরুতর সমস্যা নেই এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
স্পাইনাল কর্ডকে শরীরের প্রধান যোগাযোগব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করা যায়। এটি মস্তিষ্ক থেকে হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে সংকেত পৌঁছে দেয় এবং আবার শরীর থেকে মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায়। স্পাইনাল কর্ডে দীর্ঘদিন চাপ থাকলে এই সংকেত আদান-প্রদান ব্যাহত হতে পারে। চিকিৎসা না করলে কিছু ক্ষেত্রে স্নায়ুর ক্ষতি স্থায়ীও হয়ে যেতে পারে।











































