Home জাতীয় ‘ভাইরালের নেশায় প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করেন সিফাত’

‘ভাইরালের নেশায় প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করেন সিফাত’

9


ঢাকা অফিস।।

সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার আলোচিত কলেজছাত্র সিফাত আব্দুল্লাহ কারাগারে অন্তরীণ রয়েছেন। তবে তার গ্রেপ্তার,প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমান ও সরকার সংশ্লিষ্টদের গালাগাল নিয়ে নানা আলোচনায় স্থানীয়রা। তাদের দাবি, বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অভিযোগ নয়, মূলত ভাইরাল হওয়ার জন্য সিফাত আব্দুল্লাহ অত্যন্ত আপত্তিকর ভাষায় দেশের নির্বাহী প্রধানকে গালাগালি করেছেন।

পুলিশের দাবি, শুধু গালাগাল নয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগসূত্রের কারণে তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বোর্ড বাজার এলাকায় যে বাড়িতে সিফাত আব্দুল্লাহর পরিবার বসবাস করেন তা দ্বিতল ভবন। সেখানে কমপক্ষে ১৩-১৪ টি রুম রয়েছে। প্রতিটি রুমে লাইট, ফ্যান রয়েছে। এ ছাড়া এয়ার কন্ডিশনার, ফ্রিজসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সামগ্রী রয়েছে। ফেসবুক লাইভে সিফাত আব্দুল্লাহ দাবি করেন, তার দুই মাসের বকেয়া বিলের প্রথম মাসে ৫ হাজার ও পরবর্তী মাসে ৪ হাজার টাকা বিল এসেছে।

স্থানীয়দের দাবি, সিফাত আব্দুল্লাহর বাবা সিকান্দার প্রবাসী। এতবড় বাড়িতে ৪-৫ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল আসা স্বাভাবিক। মূলত বিদ্যুৎ বিল নয়, এই ইস্যুতে ভাইরাল হওয়ার জন্য সে আপত্তিকর ভাষায় ফেসবুকে লাইভ করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ইকবাল হোসেন বাদল বলেন, ‘সিফাত আব্দুল্লাহকে আমার মানসিক বিকারগ্রস্ত মনে হয়েছে। একজন সুস্থ মানুষ এভাবে নোংরা ভাষায় গালিগালাজ করতে পারেন না। ভাইরাল হওয়ার জন্য সে এগুলো করেছে।’

এদিকে, সিফাত আব্দুল্লাহ গ্রেপ্তারের পর এ নিয়ে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা। এই মাধ্যমেও সিফাত আব্দুল্লাহর কটূক্তির সমালোচনা করে কেউ কেউ বলছেন, আন্দোলনের ভাষা এমন আপত্তিকর হতে পারে না। যৌক্তিক আন্দোলনের জন্য নিয়মতান্ত্রিক নানা উপায় রয়েছে।

গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী সাংবাদিকদের জানান, সিফাতের বিরুদ্ধে নতুন কোনো মামলা হয়নি। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে পুরনো একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ওই মামলায় তিনি আসামি না হলেও তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। সিফাতকে আটকের পর প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে সে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করে আসছে৷ এই এলাকায় ফ্যাসিস্টদের একাধিক ঝটিকা মিছিলেও সে অংশ নিয়েছে। সেই কারণেই সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার বলেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগসূত্রের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’