স্টাফ রিপোর্টার।।
অনলাইন জুয়া ও অবৈধ হুন্ডির বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির মাঝেই খুলনায় বেরিয়ে এসেছে এক ভয়ংকর জুয়া সিন্ডিকেটের চাঞ্চল্যকর তথ্য। মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘রকেট’-এর স্থানীয় কর্মচারীদের প্রত্যক্ষ মদদে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে এজেন্ট সিম, আর তা ব্যবহার করে চালানো হচ্ছে কোটি কোটি টাকার বেআইনি অনলাইন জুয়ার কারবার।
অনুসন্ধানে জানা যায়, চক্রের অন্যতম মূলহোতা হিসেবে খুলনা অঞ্চলের রকেট-এর সেলসম্যান সাইফুল ইসলামের নাম সামনে এসেছে। সম্প্রতি তিনি নগরীর নতুন বাজার এলাকার ব্যবসায়ী দাদন আলীর ব্যবসায় ব্যবহৃত এজেন্ট সিমটি (নম্বর: ০১৯৮৯৩৪৬৩৫০) অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের জন্য ভাড়া নেন।
তবে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, সাইফুল ইসলাম সিমটি ভাড়ায় নিয়ে খুব স্বল্প সময়ের ব্যবধানে বিকাশে প্রায় ২ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন সম্পন্ন করেছেন, যা সরাসরি অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্মের সাথে যুক্ত বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে মদিনা এন্টারপ্রাইজের মালিক দাদন আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কর্মচারী আলিফ সিম হারিয়ে গেছে জানিয়ে দোকান ছেড়ে পালিয়ে গেছে। এজেন্ট সিমে প্রায় দুই কোটি টাকা লেনদেনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সম্পূর্ণ অজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে দাবি করেন। দ্বিতীয় দফায় দাদন আলীর সাথে কথা হলে তিনি খুলনাঞ্চলকে জানান, প্রতি মাসে ৫হাজার টাকায় সিমটি সাইফুলকে ভাড়া দেয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে রকেটের সংশ্লিষ্ট সেলসম্যান সাইফুল ইসলামের ব্যবহৃত মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি এবং বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
এ বিষয়ে মোবাইল ব্যাংকিং রকেটের এরিয়া ম্যানেজার রাসেল জানান, কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সচেতন মহলের দাবি, একটিমাত্র সিমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন খুলনা অঞ্চলে অনলাইন জুয়ার ভয়াবহ ব্যাপ্তিরই প্রমাণ দেয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবিলম্বে এই চক্রটির বিরুদ্ধে রূপসা ও সদর থানা এলাকায় চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে অপরাধীদের জালে আনা জরুরি।









































