Home আঞ্চলিক বাগেরহাটে চরম জালিয়াতি ও ঠিকাদারি গাফিলতি: ১ বছরেও শেষ হয়নি লক্ষ্মীখালী ব্রিজ,...

বাগেরহাটে চরম জালিয়াতি ও ঠিকাদারি গাফিলতি: ১ বছরেও শেষ হয়নি লক্ষ্মীখালী ব্রিজ, নির্মাণসামগ্রী ফেলে সটকে পড়ল ঠিকাদার!

1

বাগেরহাট প্রতিনিধি।।

নির্ধারিত চুক্তির মেয়াদ পার হয়ে এক বছর অতিক্রান্ত হতে চললেও বাগেরহাট সদর ও রামপাল উপজেলার সীমান্তবর্তী অতীব গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্মীখালী খালের ওপর নির্মাণাধীন ব্রিজের কাজ শেষ হয়নি। পাইলিংয়ের কাজ শুরুর পর হঠাৎ করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় বর্তমানে সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে পুরো প্রকল্প এলাকা। ঠিকাদারের চরম অবহেলা ও অনিয়মের কারণে বর্তমানে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের পোল দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন দুই উপজেলার অন্তত ১০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।

দুর্ভোগে ১০ গ্রামের মানুষ, বিকল্প পথে অতিরিক্ত ব্যয়:

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, লক্ষ্মীখালী খালের ওপর থাকা পুরোনো স্থায়ী ঢালাই ব্রিজটি ভেঙে নতুন ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে কাঠের পোলটি ভেঙে সংযোগ সড়ক পিচ্ছিল হয়ে পড়ায় প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ, নারী ও রোগীরা মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়ছেন। ব্রিজের কাজ থমকে থাকায় বাগেরহাট সদর ও রামপালের সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে কৃষিপণ্য পরিবহন, চিকিৎসা সেবা ও দৈনন্দিন কেনাকাটার জন্য সাধারণ মানুষকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন বাড়তি সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে যানবাহনের ভাড়াও গুণতে হচ্ছে বহুগুণ।

অর্ধকোটি টাকা বিল তুলে সটকে পড়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ:

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র অনুযায়ী, ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৪ হাজার ২১ টাকা ব্যয়ে ব্রিজটি নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল ২০২৪ সালের শেষের দিকে ‘নিশীথ বসু’ নামীয় এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৬ সালের ১২ এপ্রিলের মধ্যে সমস্ত কাজ সম্পন্ন করে হস্তান্তরের কথা ছিল। কিন্তু গত বছরের ৩ নভেম্বরের পর লোড টেস্টের সময় নির্মিত কয়েকটি পাইল দেবে যাওয়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি রহস্যজনকভাবে কাজ বন্ধ করে দেয়। এলাকা ছেড়ে সটকে পড়ে ঠিকাদারের লোকজন। এলাকাবাসীর গুরুতর অভিযোগ—কোনো দৃশ্যমান কাজ না করে এবং প্রকল্পকে বিপজ্জনক অবস্থায় ফেলে রেখে ইতিমধ্যেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৫০ লাখ টাকার সরকারি বিল তুলে নিয়েছে।

বর্তমানে নির্মাণস্থলে পাইল, পাইপিং মেশিন, রড, বালু এবং শ্রমিকদের থাকার ঘর অরক্ষিত ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে নষ্ট হচ্ছে। এলাকাবাসী একাধিকবার মানববন্ধন এবং এলজিইডি দপ্তর বরাবর স্মারকলিপি দিলেও দীর্ঘ এক বছরেও মিলেনি কোনো স্থায়ী সমাধান।

এলজিইডির আইনি পদক্ষেপ ও কার্যাদেশ বাতিলের উদ্যোগ:

অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি আল আমিনের দাবি, খারাপ রাস্তা ও বৃষ্টির কারণে মালামাল নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে বাগেরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মঞ্জুর রশিদ জানান, নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রমের পরও কাজ এগিয়ে না নেওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি স্পষ্ট। ইতিমধ্যে উক্ত কার্যাদেশ বাতিলের জন্য প্রকল্প পরিচালকের দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন মিললেই দ্রুত নতুন দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে ব্রিজের বাকি কাজ সম্পন্ন করে দুই উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব করা হবে।