মিলি রহমান।।
ওজন কমানো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ধরনের পরামর্শ দেখা যায়। কী খাবেন, কতটা ব্যায়াম করবেন কিংবা কত দ্রুত ওজন কমানো সম্ভব—এসব নিয়েই বেশি আলোচনা হয়।
কিন্তু ওজন কমানোর সময় শরীর ও মনের ভেতরে কী ধরনের পরিবর্তন হয়, তা নিয়ে তুলনামূলকভাবে কম কথা বলা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন কমানোর প্রক্রিয়ায় শুধু শরীরের ওজনই পরিবর্তিত হয় না। ক্ষুধা, ঘুম, শক্তির মাত্রা এবং মানসিক অবস্থাতেও পরিবর্তন আসতে পারে।
ওজনের মাপ সব সময় পুরো সত্য বলে না
ওজন কমানোর সময় প্রতিদিনের ওজন দেখে হতাশ হওয়ার প্রয়োজন নেই। শরীরে পানি জমে থাকলে কয়েক কেজি পর্যন্ত ওজন বেশি দেখা যেতে পারে।
লবণযুক্ত খাবার, মানসিক চাপ কিংবা নতুন করে ব্যায়াম শুরু করলেও শরীরে সাময়িকভাবে পানি ধরে রাখতে পারে। ফলে শরীরে চর্বি কমলেও ওজন মাপার যন্ত্রে সেই পরিবর্তন সবসময় সঙ্গে সঙ্গে দেখা যায় না।
দ্রুত ওজন কমানো সব সময় ভালো নয়
খুব দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা করলে শরীরের চর্বির পাশাপাশি পেশিও কমে যেতে পারে। তাই শুধু ওজনের সংখ্যা কমানো নয়, শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার দিকে নজর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ধীরে ও স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন কমানোকে ব্যর্থতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ওজন কমলে ক্ষুধা বাড়তে পারে
দীর্ঘ সময় ওজন কমানোর চেষ্টা করলে শরীরে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের পরিবর্তন হতে পারে। ঘ্রেলিনের মাত্রা বাড়তে এবং লেপটিনের মাত্রা কমতে পারে। ফলে আগের তুলনায় বেশি ক্ষুধা লাগতে পারে। এটি শুধু ইচ্ছাশক্তির বিষয় নয়। শরীরের স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়াও এর পেছনে ভূমিকা রাখে।
এ কারণেই ওজন কমানোর পর সেটি ধরে রাখা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। তাই শুধু দ্রুত ওজন কমানোর পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস তৈরি করা জরুরি।
ঘুমের ওপরও নজর দেওয়া দরকার
ওজন কমানোর সময় খাবার ও ব্যায়ামের দিকে অনেকেই বেশি মনোযোগ দেন। কিন্তু পর্যাপ্ত ঘুমও গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমের ঘাটতি ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন ও মানসিক চাপের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার চেষ্টা করলেও ক্ষুধা বা খাবারের আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবার নিয়ন্ত্রণ ও ব্যায়ামের পাশাপাশি নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু ওজনের সংখ্যায় নজর নয়
ওজন কমানোর যাত্রায় শুধু ওজন মাপার যন্ত্রের সংখ্যাকে সাফল্যের মাপকাঠি হিসেবে দেখা ঠিক নয়। শরীরের শক্তি, ঘুম, খাবারের অভ্যাস এবং সামগ্রিক সুস্থতার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, খুব দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা না করে স্বাস্থ্যকর ও টেকসই অভ্যাস গড়ে তোলা। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক বা যোগ্য পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।











































