Home Lead খুলনায় চুরির ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতার ক্ষোভ: দুই মাদক ব্যবসায়ীর বাড়ি ভাঙচুর, গ্রেপ্তার...

খুলনায় চুরির ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতার ক্ষোভ: দুই মাদক ব্যবসায়ীর বাড়ি ভাঙচুর, গ্রেপ্তার ২

250

স্টাফ রিপোর্টার।।

খুলনা মহানগরীর সদর থানাধীন বি কে মেইন রোড ও মৌলভীপাড়া এলাকায় নৈশকালীন চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ জনতা দুই মাদক ব্যবসায়ীর বাড়ি ভাঙচুর করেছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২:৩০টা থেকে ২:১০টা পর্যন্ত এ উত্তেজনা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এক মাদক ব্যবসায়ীর স্ত্রী ও ভাইকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ শুক্রবার শেষ রাতে (আনুমানিক রাত ৩:০০টা থেকে ৫:০০টার মধ্যে) বি কে মেইন রোডস্থ বড় মসজিদের পাশে অবস্থিত ‘মা টেলিকম’-এর মালিক মিলন মন্ডল এবং পার্শ্ববর্তী ‘আলতাফ স্টোর’-এর মালিক মো. আলতাফ হোসেনের দোকানে চুরি সংঘটিত হয়। চোরেরা রাতের আঁধারে দোকান দুটি থেকে বিপুল পরিমাণ মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়।

এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের অভিযোগ, বি কে মেইন রোডস্থ ইসমাইল মঞ্জিলের বাসিন্দা মৃত ইসমাইলের ছেলে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী পরাগ (৪৪) নিজ বাড়িতে নিয়মিত মাদকের আসর ও বেচাকেনা চালিয়ে আসছিল। পরাগের কাছ থেকে মাদক কিনতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা উশৃঙ্খল যুবক ও মাদকসেবীরা ওই এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল।

দোকান চুরির ঘটনায় চরম বিক্ষুব্ধ হয়ে আজ দুপুরে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ পরাগের ‘ইসমাইল মঞ্জিল’ ঘেরাও করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। খবর পেয়ে খুলনা সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিক্ষুব্ধ জনতা পরাগের স্ত্রী মিতা (৩৬) ও ভাই সৌরভকে (৩৮) পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

এরপর বিক্ষুব্ধ জনতা মৌলভীপাড়া সুলতান আহমেদ রোডস্থ সাহেব আলী মোড়ের অপর চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী জ্যোতি (পিতা: মৃত হিমু)-র বাড়িতে চড়াও হয় এবং তাঁর বসতঘরের থাই গ্লাস ভাঙচুর করে।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত হওয়া এই এলাকায় চুরির ঘটনা নিত্যদিনের ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ ও স্থায়ী উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন তারা।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে খুলনা সদর থানা পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। চুরির ঘটনা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ভাঙচুরের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।